Site icon Hindustan News Point

তথ্য যাচাই করে তবেই দেশে ফেরা, বাংলাদেশে ফিরতে হাকিমপুর সীমান্তে অপেক্ষায় বহু অনুপ্রবেশকারী

India Bangladesh Border

ভারতে অবৈধভাবে বসবাস কয়েকবছর ধরে। এমনকি বৈধ নথিও জোগাড় করে ফেলেছিলেন তাঁরা। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর শেষ রক্ষা হলো না অনুপ্রবেশকারীদের। সীমান্ত এলাকায় শুরু হয়ে গিয়েছে ধড়পাকড়। দেশে ফেরার হিড়িক বেড়ে গিয়েছে। লোটা-কম্বল গুটিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে ভিড় জমাচ্ছেন অনুপ্রবেশকারীরা (India Bangladesh Border)। এই ছবি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বিথারী হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাকিমপুর চেক পোস্টের। ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকে বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করে তবেই দেশে ফেরানো হচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের, এখনও অপেক্ষায় বহু।

সূত্রের খবর, এই অনুপ্রবেশকারীরা বিভিন্ন সময়ে দালালদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (India Bangladesh Border)।

হোল্ডিং সেন্টারে বসে নিজের দেশে ফেরার অপেক্ষা করছেন, মরিয়ান বিবি। কীভাবে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন তিনি? তাঁকে এই প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, “বিগত ৫ বছর আগে বাংলাদেশের খুলনা জেলা থেকে এসে এদেশে থাকতে শুরু করেছিলাম। পরিবারের ৪ জনকে নিয়ে এখানে ছিলাম। উত্তর ২৪ পরগনার শাসনে একটি ইটভাটায় কাজ করছিলাম। দালাল মারফত অন্ধকারে কাঁটাতার পেরিয়ে ঢুকেছি। দালাল আমাদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৭ হাজার টাকা করে নিয়েছে।”

শুধু মরিয়ান বিবির নয়, এই গল্প এই হোল্ডিং সেন্টারে থাকা প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীদের। ইতিমধ্যেই, তাঁদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পে বায়োমেট্রিক তথ্য, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তবেই মিলছে ছাড়পত্র। বর্তমানে বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর-সহ তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে মোট ২৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে।

BSF সূত্রে খবর, সঠিক তথ্য যতক্ষণ না পর্যন্ত পাওয়া যাবে ততক্ষণ তাঁদের দেশে ফেরানো হবে না। হোল্ডিং সেন্টারে থাকা শিশু, মহিলা, পুরুষদের জন্য সব রকম স্বাস্থ্য পরিষেবা খাওয়া-দাওয়া এমনকি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে তাঁদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি থানা এলাকায় একটি করে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। আর যাতে কোনও রকম অনুপ্রবেশ না হয় সেই দিকেও নজর রেখেছে প্রশাসন।


Exit mobile version