কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো (maoist shakuntala) ওরফে পুষ্পা। তাঁর কাছে থাকা একটি SLR, ৪০ রাউন্ড কার্তুজ এবং ম্যাগাজিন পুলিশের কাছে জমা দেন। মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা।
আত্মসমর্পণের পর এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শকুন্তলা(maoist shakuntala) বলেন, “আমি মনে করি এখানকার যে পরিস্থিতি এখন এই আন্দোলন এখন ঠিক নয়, তাই আত্মসমর্পণ করেছি। এই সরকার বলেছে মূল স্রোতে ফিরে আসতে, তাই আমি ফিরে এসেছি। সরকারের ওপর অনেক আশা রয়েছে তাই ফিরে এসেছি। যারা এখনও বেঁচে আছেন তাঁদেরও আমি আহ্বান জানাচ্ছি। তাঁরা যেন এসে আত্মসমর্পণ করেন। ফিরে আসুক ঘর সংসার করুক।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। সরকার যা বলেছে তাতে পুনর্বাসন দেওয়া হবে, এর আগেও অনেকে পেয়েছেন। তাই আত্মসমর্পন করেছি। বাকি যারা এখনও আছেন তাঁরা যাতে মূল স্রোতে ফিরে আসেন, তার অনুরোধ করছি।”
বেলপাহাড়ির মেছুয়া গ্রামের বাসিন্দা পুষ্পা। ২০০১ সালে কালচারাল মাও এস্টেটের সদস্য হিসেবে জয়েন করে। মূলত ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা বর্ডারে মাও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আবার কখনও বিহার ঝাড়খন্ড ওডিশা সীমানাতেও কাজ করেছেন। সূত্রের খবর, চলতি বছর ৬ ফেব্রুয়ারি মাওবাদী কার্যকলাপ থেকে বেরিয়ে যান।পরে সেখান থেকেই বাংলায় মাওবাদী কার্য কলাপ চালাতেন। বেলপাহাড়ির মেচুয়া গ্রামের বাসিন্দা। চলতি বছর ৬ ফেব্রুয়ারি মাওবাদী কার্যকলাপ থেকে বেরিয়ে যান। তিনি সংসার জীবনের মূল স্রোতে ফিরতে চান।
গত এপ্রিলে সব রাজ্যকে কেন্দ্র জানায়, মাওবাদী হিংসা থেকে মুক্ত হয়েছে দেশের সব জেলা। তবে ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলাকে ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কনসার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ওই জেলাটি ছাড়াও অতীতে মাওবাদী প্রভাব ছিল এমন আরও ৩৭টি জেলার পরিস্থিতি স্পর্শকাতর বলে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং একই সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র।

