তোলাবাজি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, একাধিক অভিযোগ ছিল। জনরোষের ভয়ে শেষমেশ খাটের তলায় ঢুকে গা ঢাকা দিলেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা বলে পরিচিত শহিদুল মিঞাঁ। অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো শুনতে মনে হলেও এমনই নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল কোচবিহারের মাথাভাঙা (tmc leader arrested)।
বৃহস্পতিবার আবাস যোজনার কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে কোচবিহারের মাথাভাঙা। বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষপর্যন্ত খাটের তলা থেকে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেতা। ঘটনাটি ঘটেছে মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এলাকার গরিব মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ঘরপিছু ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে (tmc leader arrested)।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মাথাভাঙা থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ ধরে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। পরে পুলিশের উপস্থিতিতেই খাটের তলায় লুকিয়ে থাকা ওই তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে রীতিমতো এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদলানোর পর বদলে যায় সেই ছবিও। তৃণমূল নেতার উপর এতদিন জমে থাকা রাগেরই যেন বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা গেল। বেগতিক বুঝে এবং উত্তেজিত জনতার রোষের হাত থেকে বাঁচতে নিজের ঘরের খাটের নীচে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন শহিদুল। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হল না।
ভোটে হারার পর থেকে সময় খারাপ যাচ্ছে তৃণমূলের। একের পর এক নেতা, কাউন্সিলর গ্রেফতার হচ্ছেন দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগে। কোচবিহারের মাথাভাঙাতেও একই ছবি। আপাতত ওই অভিযুক্ত নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

