সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার দেবাশিস ধর (Debasish Dhar) ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ফলতায় পুনর্নির্বাচন, ডায়মন্ড হারবারের ভোট এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন তিনি। একইসঙ্গে গড়িয়ার ফরতাবাদ এলাকায় বিজেপির নতুন দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করে মানুষের পাশে থাকার বার্তাও দেন দেবাশিস ধর।
বুধবার গড়িয়ার ফরতাবাদে পেপসি কারখানার উল্টো দিকে নতুন বিজেপি দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনে এসে দেবাশিস ধর (Debasish Dhar) সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। তিনি দাবি করেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৭ লক্ষ ১১ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। ফলতা থেকে ১ লক্ষ ভোটের লিড পেয়েছিলেন। কিন্তু এখন ময়দান ছেড়ে চলে গেছেন। মানুষ এখন বুঝতে পারছে নির্বাচন কীভাবে হয়েছিল।”
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। আরও এক ধাপ এগিয়ে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দাবি তুলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দিকে। দেবাশিস ধরের কথায়, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এত বড় বড় ডায়ালগ দিয়েছেন। একবার বলুন ডায়মন্ড হারবারে উপনির্বাচন হোক। দেখা যাবে কত ভোটে জেতেন। সত্যিকারের, ফেয়ার নির্বাচন হলে মানুষ রায় দেবে।”
তিনি (Debasish Dhar) আরও দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে আদালতের পর্যবেক্ষণে সাংসদ পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। দেবাশিস ধরের বক্তব্য, “যা প্রমাণ রয়েছে, তাতে হাইকোর্ট ওনার সাংসদ পদও বাতিল করতে পারে। একবার নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক, তাহলেই বোঝা যাবে ৭ লক্ষ ভোটে জেতেন নাকি হেরে যান।”
তীব্র গরমে ট্রাফিক পুলিশদের স্বস্তি, বিশেষ কিট বিলি নগরপালের
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি এদিন নতুন দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করে সাংগঠনিক রূপরেখাও তুলে ধরেন সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক। তিনি জানান, এতদিন এই বিধানসভা এলাকায় কোনও কার্যকর বিধায়ক অফিস ছিল না। গড়িয়ায় একটি অফিস থাকলেও তার পরিকাঠামো যথেষ্ট ছিল না। তাই মানুষের সুবিধার জন্য আধুনিক পরিষেবাসহ নতুন অফিস তৈরি করা হয়েছে।
দেবাশিস ধর জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। (Debasish Dhar) তাঁর কথায়, “মানুষ বিধায়কের অফিসে নানা কাজ নিয়ে আসেন। সেই পরিষেবা দিতে গেলে ডকুমেন্টেশন, ফাইল পরিচালনা সবকিছুই প্রয়োজন। তাই আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা ২৪x৭ হেল্পলাইন চালুর পরিকল্পনা করছি।”
(Debasish Dhar) তিনি জানান, সোম থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকবে। বিধানসভা চলাকালীন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্তও সময় রাখা হবে যাতে মানুষ সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
এছাড়াও সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে ব্রাঞ্চ অফিস তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দেবাশিস ধরের বক্তব্য, “খেয়াদহের মতো দূর এলাকা থেকে মানুষের আসতে অনেক খরচ হয়। তাই আমরাই মানুষের কাছে যাব। এলাকায় এলাকায় ঘুরে মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনব।”
বাজার এলাকায় আচমকা গিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া, বিভিন্ন সরকারি দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি। রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি জনসংযোগ ও পরিষেবা-ভিত্তিক রাজনীতির বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন বিজেপি বিধায়ক।

