Site icon Hindustan News Point

‘ড্রেসিং টেবিল-খাট-বালিশ-৫টা এসি!’ বিধাননগরের ওয়ার্ড অফিস, হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়

Sharadwat Mukherjee

সরকারি ওয়ার্ড অফিস নাকি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত শয়নকক্ষ? বিধাননগর পুনিগমের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড অফিসে ঢুকে এমনই প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক চিকিৎসক (Sharadwat Mukherjee) শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। একাধিক এসি, দামি সোফা, খাট, ড্রেসিং টেবিল, কম্বল-বালিশ থেকে শুরু করে ড্রয়ারে উদ্ধার হওয়া কন্ডোমের প্যাকেট— সব মিলিয়ে কার্যত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এই ওয়ার্ড অফিসকে ঘিরে।

বিধাননগরের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড অফিসে গিয়ে কার্যত হতবাক হয়ে গেলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই ওয়ার্ড কার্যালয় খুলতেই সামনে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি দফতরের পরিবর্তে যেন একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত অ্যাপার্টমেন্ট বা শয়নকক্ষের ছবি উঠে এসেছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ার্ডের পরিষেবা ও কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার বিধাননগরের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড অফিসে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কিন্তু ভিতরে ঢুকেই চোখ কপালে ওঠে তাঁর।

অভিযোগ, ওয়ার্ড অফিসের বাইরের অংশে সাজানো রয়েছে একাধিক দামি সোফা। পুরো অফিসজুড়ে পাঁচটিরও বেশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (AC)। মন্ত্রীর দাবি, অফিসের পরিকাঠামো দেখে তা কোনও সরকারি দফতরের তুলনায় বিলাসবহুল হোটেলের মতো বলেই মনে হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি চমকে দেন অফিসের অভ্যন্তরে থাকা তথাকথিত ‘কাউন্সিলর রুম’। সেখানে চেয়ার-টেবিল বা ফাইলের পরিবর্তে পাওয়া যায় খাট, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, বালিশ, কম্বল এবং বিছানার চাদর। অভিযোগ, ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি কন্ডোমের প্যাকেটও। এই ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর (Sharadwat Mukherjee) শারদ্বত মুখোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “জয়দেবের বাড়ি আছে, ওখানেও খুলে দেখব কী কী আছে! এখানেও কম্বল, মশারি সব পাওয়া যাবে। পাঁচখানা এসি দেখে আমার হিংসে হচ্ছে। আমার অফিস এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ। বিধানসভার স্পিকারের অফিসও এর থেকে ছোট।”

(Sharadwat Mukherjee) তিনি আরও বলেন, “আমি সরকারি দফতরের মধ্যে শয়নকক্ষ দেখলাম। প্রথমে একটা বড় ঘর দেখলাম, যেটা কম করে হাজার চারেক স্কোয়ার ফিট হবে। তারপর আরও একটি প্রায় হাজার দুয়েক স্কোয়ার ফিটের ঘর, সঙ্গে বাথরুম। ভেতরে আবার ছোট ঘর, সেখানে সোফা, বেড, বালিশ, কম্বল রয়েছে। ড্রেসিং টেবিলও রয়েছে। কেন এগুলি রয়েছে, সেটা বুঝতে পারছি না।”

ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে কন্ডোমের প্যাকেট উদ্ধারের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, এই জিনিস দেখাও পাপ। এবার বুঝতে পারলাম শয়নকক্ষ কেন!”

উল্লেখ্য, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিধাননগর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়দেব নস্করের কোনও খোঁজ মিলছে না বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সরকারি ওয়ার্ড অফিসে কীভাবে এমন বিলাসবহুল ব্যবস্থাপনা তৈরি হল এবং তা কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হত, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

আরও পড়ুন :- অরুণাচলের খাদে সেনার ট্রাক, নিহত জওয়ান, আহত ২


Exit mobile version