পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় রাজনীতি সবসময়ই সরগরম। দলবদল নতুন নয়। তবে শুক্রবার ময়নার বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডলের তৃণমূলে যোগদান নিয়ে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই যোগদানের ফলে শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরেই চাপানউতোর। (BJP)
শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষের উপস্থিতিতে চন্দন মণ্ডল তৃণমূলে যোগ দেন। যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার দিকে তোপ দাগেন। বিজেপিতে থাকাকালীন চন্দন বিধায়কের বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। (BJP)
চন্দন অভিযোগ করেন, বিধায়ক অশোক দিন্দা এলাকার বিজেপি নেতৃত্বকে কোণঠাসা করছেন। এছাড়া মৎস্যজীবীদের উন্নয়নে কোনও কাজ হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তৃণমূলে ঢুকতেই তৃণমূল কর্মী এবং চন্দনের সমর্থকরা উচ্ছ্বাসে ভাসেন। (BJP)
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনা নিয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি নন। তিনি বলেন, “চন্দনের জন্য বেশি খরচ করতে চাই না। ও যে দলে যোগ দিয়েছে, সেটি একটি ব্যক্তি নির্ভর দল। বিজেপি কোনও ব্যক্তি নির্ভর দল নয়। প্রতিটি সদস্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে কাজ করে।” (BJP)
শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের জামাত যেভাবে পরাজিত হয়েছে, পরবর্তীতে তৃণমূলও পশ্চিমবঙ্গের সেই ভাবেই পরাজিত হবে। চন্দনের বিষয়টিও বেশ স্বাভাবিক। অনেকেরই ভোটে জিতে এমএলএ হওয়ার ইচ্ছা থাকে। শুনেছি বুথ সভাপতিদের বাড়িতে ডাকা হয়েছিল। সেখানে ওনাকেও হয়তো এমন একটি টিকিট দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। ভোটে জিতলে মৎস্য মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।” (BJP)
শুভেন্দু স্পষ্ট করে জানান, ময়না বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঠিক করবে। তবে তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেন, “ময়নায় যেই প্রার্থী হোন, তাঁকে কুড়ি হাজার ভোটে জেতাব। ভোটের ফলের দিন সকালেই বিষয়টি মিলিয়ে নেবেন।” (BJP)
চন্দনের দলবদলের পর ময়নায় বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা বাইক মিছিল করেন। গজিনায় বিজেপি কর্মীরাও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন। (BJP)
সব মিলিয়ে চন্দন মণ্ডলের হাত ধরে তৃণমূল ময়নায় নিজের জমি শক্ত করতে চাইছে। বিজেপি কোণঠাসা হলেও, নির্বাচনী প্রভাব কতটা পড়বে, তা ভোটের দিনই পরিষ্কার হবে। ময়নার রাজনীতি একবারে সরগরম হয়ে উঠেছে। (BJP)

