দুপুর গড়িয়ে তখন বিকেল। প্রধানমন্ত্রীকে(Narendra Modi) একবার দেখবেন বলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ। সকাল থেকেই সাজো সাজো রব। অবশেষে তাঁর দেখা পেলেন। ৪.৩০ টে নাগাদ কপ্টারে করে হুগলির তারকেশ্বরের মাটিতে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কপ্টার থেকে নেমে সোজা চলে গেলেন মঞ্চে। সেখানে তাঁকে অভিবাদন জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা। শুরু হয় বন্দে মাতরম গান।
এরপরেই সংবর্ধনা দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে(Narendra Modi)। বাংলার বিখ্যাত মিষ্টি রসগোল্লা ও জলভরা সন্দেশের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করছে শৈব তীর্থে। সেই উপলক্ষে শিবলিঙ্গ-ডোকরার দুর্গামূতি উপহার দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রথমে মঞ্চে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেই বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারকেশ্বরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনতা আজ স্বাধীন, পরাধীনতার শিকলমুক্ত। আজ এই বাংলাকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের এই পরিবর্তন ভাল লাগছে তো? স্বচ্ছতা থাকলেই বিকাশ হবে। আজকের এই ঐতিহাসিক দিন বিকাশ হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আগের সরকারের আমলে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলা। আমরা সুপারফাস্ট গতিতে উন্নয়নের লক্ষ্যে এগোচ্ছি। পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনবোই।”
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাহাত্ম্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার আগে বাঙালিদের অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। গ্রেট ক্যালাকাট কিলিং থেকে নোয়াখালির দাঙ্গা। হিংসা, রক্তপাতের সাক্ষী থেকেছে বাংলা। এই বাংলাকে ভারতের থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আমরা সেই ইতিহাসকেই স্মরণ করাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ইতিহাসকে হোয়াইট ওয়াশ করার চেষ্টা হয়েছে। বাংলার ইতিহাসকে ধামাচাপা দিতে তোষণের খেলা চলেছে।”
এই মঞ্চ থেকে রাজ্যের বিরোধী দল বাম-তৃণমূল-কংগ্রেসকে একযোগে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “দশকের পর দশক ধরে কুশাসন, পিছিয়ে দিয়েছে বাংলাকে। আপনারা পরিবর্তনের সংকল্প নিয়েছিলেন, আমাদের আশীর্বাদ করেছেন। এখন সারা দেশ দেখছে, কীভাবে বাংলার উন্নতি হচ্ছে। আয়ুষ্মান থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, সবকিছুর সুবিধা মিলছে। সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দিচ্ছিল না আগের সরকার। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর জমি পেয়েছে BSF. পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন ফিরেছে। যাঁরা আপনাদের লুঠেছেন, তাঁরা এখন নিজেরাই টাকা ফেরাচ্ছেন।”

