Site icon Hindustan News Point

ছাত্র মৃত্যুতে উত্তাল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন, পদত্যাগ প্রধান শিক্ষকের

Narendrapur Ramkrishna Mission Student Death

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে একাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। (Narendrapur Ramkrishna Mission Student Death) ছাত্র-অভিভাবকদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পদত্যাগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি ছাত্র নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে সৌরভ তরু বিশ্বাস, সোমনাথ বৈরাগী এবং সমরেশ ধাড়াকে সাসপেন্ড করেছে মিশন কর্তৃপক্ষ। তবে এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন ছাত্র ও অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে সমস্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রধান শিক্ষক, হাউস মাস্টার, পিজি এবং হোস্টেলের একাধিক কর্মীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। (Narendrapur Ramkrishna Mission Student Death) অভিযোগকারীদের দাবি, হোস্টেলে ছাত্রদের উপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করা হতো। এমনকি এক হাউস স্টাফের বিরুদ্ধে প্রতি শুক্রবার মদ্যপ অবস্থায় ছাত্রদের উপর নির্যাতনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিভাবক শিল্পা দাস পাল বলেন, “অভিযোগ হচ্ছে, শুধু সিনিয়র সেকশন নয়, জুনিয়র সেকশনেও একই অবস্থা। পিজিরা অশালীন ভাষা ব্যবহার করে, ভীষণ মারধর করে। রজত নামে এক পিজি অত্যন্ত অশালীন ভাষায় কথা বলে। বাচ্চারা যদি ওদের কাছ থেকে এসব শেখে, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?”

(Narendrapur Ramkrishna Mission Student Death) দীপ্তাংশুর সহপাঠীদের অভিযোগ, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার কারণে আগের রাতে তারা দেরি করে জেগেছিল। পরদিন গুরুত্বপূর্ণ ক্লাসে ঘুম এড়াতে সকাল ৭টার পর দীপ্তাংশু চা চাইলে তাকে দেওয়া হয়নি। এরপর শিক্ষকদের জন্য রাখা ফ্লাস্ক থেকে চা খেতে গিয়ে তার গলায় অত্যন্ত গরম চা লাগে। প্রথমে বিষয়টি চেপে রাখলেও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাউস মাস্টারকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: কালিগঞ্জে মহুয়ার উপর ‘ডিম হামলা’, ভিজল শাড়ি! রেগে আগুন সাংসদ

এক সহপাঠীর অভিযোগ, “সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দীপ্তাংশু কষ্ট সহ্য করেছে। পরে রক্তবমি শুরু হয়, শ্বাসকষ্ট বাড়ে। ডাক্তার দ্রুত এন্ডোস্কোপির পরামর্শ দিলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান ও বৈঠকের কারণে তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়।”

(Narendrapur Ramkrishna Mission Student Death) এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগে সরব হয়েছে ছাত্র-অভিভাবক মহল। তাঁদের দাবি, অসুস্থ ছাত্রের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে প্রশাসনিক অনুষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এই (Narendrapur Ramkrishna Mission Student Death) প্রসঙ্গে সোমনাথ সরকার বলেন, “একটা বাচ্চা গরম চা খেয়ে খাদ্যনালী পুড়িয়ে ফেলেছে, অথচ প্রতিষ্ঠান ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিল। ক্যাম্পাসে গাড়ি ও হাসপাতাল জোন থাকা সত্ত্বেও রক্তবমি করা ছাত্রটিকে ফেলে রাখা হয়। তার বাবাকে মধ্যমগ্রাম থেকে আসতে বলা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

পরিস্থিতি সামাল দিতে ছাত্র, অভিভাবক ও মিশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিশনের সম্পাদক স্বস্ত্রজ্ঞানন্দ মহারাজ। তিনি জানান, “সমরেশ এবং সোমনাথ বৈরাগীকে শো-কজ ও সাসপেন্ড করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাকিদের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন: পুলিশের সামনেই পগারপার ১৪ জন বন্দি, ফের হাসির খোরাক পাকিস্তান

তবে ছাত্রদের দাবি, শুধু এই দুই বা তিনজন নয়, সৌরভ বিশ্বাস, সৌরভ জানা এবং অরিন্দম মাইতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগই যথেষ্ট নয়; ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই এখন সবচেয়ে বড় দাবি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনও ছাত্রকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেই নিশ্চয়তাও দিতে হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মহল, অভিভাবক এবং প্রাক্তনীদের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


Exit mobile version