Site icon Hindustan News Point

তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদের নতুন ঠিকানা NCPI, চিনে নিন এই নতুন রাজনৈতিক দলকে

NCPI

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ নিজেদের নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ঘোষণা করার পরই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি প্রায় অচেনা দল— ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)। যে দল কয়েক বছর আগেও রাজনৈতিক মহলে প্রায় অজানাই ছিল, সেই দলই এখন বাংলার রাজনীতির অন্যতম আলোচিত নাম।

২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘রেজিস্টার্ড আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি’ (RUPP) হিসেবে নিবন্ধিত হয় NCPI। আশ্চর্যের বিষয়, পশ্চিমবঙ্গে নিবন্ধিত হলেও দলটি প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নামে ত্রিপুরায়। নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, দলটির মোট অনুদানের পরিমাণ ছিল মাত্র ১.১৩ লক্ষ টাকা।

দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নাম রয়েছে শিউলি কুণ্ডুর। হাওড়ার বানীপুর এলাকায় অবস্থিত একটি ঠিকানা থেকেই পরিচালিত হয় NCPI। একই ঠিকানায় নিবন্ধিত রয়েছে ‘বিশ্ববাজার প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ অসংগঠিত মহিলা কর্মী অ্যাসোসিয়েশন’ নামের দুটি সংস্থাও। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন শিউলি কুণ্ডু। দলের সভাপতি হলেন উত্তীয় কুণ্ডু, যিনি শিউলি কুণ্ডুর স্বামী।

রাজনৈতিক যাত্রার শুরুতেই ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে সাতটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল NCPI। তবে চারটি আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি কেন্দ্রে দলীয় প্রতীকে লড়াই হয়। চাওমানু কেন্দ্রে দল পায় ৫৩৬ ভোট এবং কৈলাশহরে ২৮৬ ভোট। মোট ভোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮২২। এছাড়া NCPI-সমর্থিত এক নির্দল প্রার্থী কৃষ্ণ কুমার দেববর্মা আমবাসা কেন্দ্র থেকে ৩৭৬ ভোট পান। সব মিলিয়ে দলের ঝুলিতে আসে মাত্র ১,১৯৮ ভোট। কোনও আসনেই জয়ের লড়াইয়ে ছিল না দলটি।

ত্রিপুরার কয়েকজন প্রাক্তন প্রার্থী দাবি করেছেন, নির্বাচনের পর কার্যত অদৃশ্য হয়ে যায় NCPI। কৈলাশহরের প্রাক্তন প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলির অভিযোগ, ভোটের আগে কলকাতা থেকে এসে যোগাযোগ করলেও পরে আর দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখা যায়নি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরেক প্রাক্তন প্রার্থী বরজেদা ত্রিপুরাও।

(NCPI) দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে জানিয়েছেন, ত্রিপুরা নির্বাচনের পর আর্থিক বিষয় নিয়ে দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ তৈরি হয়। ফলে সংগঠন কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার প্রস্তাবও অর্থাভাবের কারণে বাস্তবায়িত হয়নি।

কিন্তু সেই ছোট দলই এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায়। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ২০ জন সাংসদ সম্প্রতি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে পৃথক বসার ব্যবস্থা ও স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। পরে বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি চেয়েছেন।

এরপর তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চিত করেন যে বিদ্রোহী সাংসদদের গোষ্ঠী NCPI এর সঙ্গে একীভূত হয়েছে। আর সেই ঘোষণার পরই রাতারাতি জাতীয় স্তরে পরিচিতি পেয়ে যায় NCPI।

মাত্র কয়েকশো ভোট পাওয়া একটি আঞ্চলিক দল কীভাবে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে চলে এল, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। আগামী দিনে এই জোট বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

মোহনবাগান পাঁচবার ISL জিতেছে: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়


Exit mobile version