Site icon Hindustan News Point

রাস্তা নয়, যেন পুকুর! জমা জলে ছিপ ফেলে প্রতীকী প্রতিবাদ, উঠল ‘চোর’ ‘চোর’ শ্লোগান

waterlogged streets

এ যেন রাস্তা নয়, এক প্রকার ডোবা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রবর্তী পাড়া এলাকার রাস্তার অবস্থা বেহাল। পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। একটু বৃষ্টি হলেই জল জমে গর্ত গুলিতে। গাড়ি নিয়ে যেতেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন যাত্রীরা। এই এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জমা জলে ছিপ ফেলে প্রতীকী প্রতিবাদে গর্জে উঠল রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। উঠল চোর চোর শ্লোগানও (waterlogged streets)।

রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন এলাকাবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, আগের সরকারকে বারবার এই রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। বরং তাদের কাছ থেকে বারবার আশ্বাস মিললেও রাস্তার কাজ শুরু হয়নি (waterlogged streets)। এই অভিযোগেই মঙ্গলবার সকালে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। জমা জলে ছিপ ফেলে মাছ ধরতে দেখা যায় তাঁদের। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, “যে রাস্তা দিয়ে মানুষ চলতে পারে না, সেখানে মাছ তো বাঁচবেই!”

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বড় বড় গর্ত, তার মধ্যে জমে থাকা নোংরা জল এবং ভাঙাচোরা অংশের কারণে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতে অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে গেলে চরম ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্কুলপড়ুয়া শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী মহিলা থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী সকলকেই বাধ্য হয়ে এই পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার পুরসভাকে জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তাঁদের প্রশ্ন, নাগরিকদের মৌলিক পরিকাঠামো নিশ্চিত করার দায়িত্ব যদি প্রশাসন পালনই না করে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?

এরপরই রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাজীব পুরোহিত এর দায় চাপিয়েছেন কেএমডিএ-র উপর। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সংস্থার কারণেই রাস্তা সংস্কারের কাজ আটকে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সেইসময়ে প্রাক্তন তৃণমূল সরকার পরিচালিত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

এই বক্তব্য মানতে নারাজ সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভার ২ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই কাউন্সিলর অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। অবিলম্বে রাস্তা মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তিনি। দ্রুত কাজ শুরু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
এখন প্রশ্ন একটাই, আর কতদিন এই দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হবে সাধারণ মানুষকে? নাকি বড় কোনও দুর্ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মহল?

আরও পড়ুন :- পরিণয় আর হলো না, লখনউয়ে অভিশাপ্ত অগ্নিকাণ্ডে শেষ পরিণতি নীলেশ-অনামিকার


Exit mobile version