বিদ্যুৎ বিলের বিপুল বকেয়া মেটাতে সর্বস্বান্ত বলে দাবি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের ধাদলপাড়া বড়িপুকুর এলাকার আদিবাসী বৃদ্ধ দম্পতি।নিজের সম্বলের জমি বিক্রি এবং বাকি জমি লিজ দিয়েছেন বলে জানিয়েছন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। মাত্র দুটি আলো ও একটি টিভি চলা সত্ত্বেও এক লক্ষ টাকার ওপর বিল আসায় এবং সেই টাকা মেটাতে জমি খোয়ানোয় বিদ্যুৎ দফতরের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। (Electric Bill)
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধাদলপাড়ার বাসিন্দা পেশায় কৃষক বিশান হেমরম ও তাঁর স্ত্রী সীতা বাস্কে দীর্ঘ এক বছর ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। ইন্দিরা আবাস যোজনায় পাওয়া দু’টি প্লাস্টারহীন টিনের ঘরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে তাঁদের বসবাস। অভিযোগ, বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা আগে এসে মিটার সমস্যার কথা বলে বিল না দিলেও, সম্প্রতি বরাহার বিদ্যুৎ অফিস থেকে জানানো হয় যে গত পাঁচ বছরে তাঁদের বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা সুদ যোগ করে মোট বকেয়া এক লক্ষ সাত-আট হাজার টাকা । এমনটাই দাবি ওই দম্পতির। (Electric Bill)
অসহায় দম্পতি বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরে পেতে শেষ পর্যন্ত তাঁদের নয় শতক জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন। অভিযোগ উঠেছে, গত মঙ্গলবার তাঁরা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিলেও তাঁদের হাতে যে রসিদ ধরানো হয়েছে, তার মোট অঙ্ক ৯৮,৩৪০ টাকা। বাকি প্রায় পাঁচ হাজার টাকার কোনও হিসেব মেলেনি বলে অভিযোগ তুলেছেন দম্পতি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই বিপুল পরিমাণ বিলের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, সামান্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে পাঁচ বছরে এত টাকা বিল কীভাবে সম্ভব। (Electric Bill)
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমারগঞ্জ ব্লকে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে বিষয়টিকে ‘অমানবিক’ বলে দাবি করে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, কুমারগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের স্টেশন ম্যানেজার নাজমুল হক বর্তমানে ছুটিতে থাকায় ফোনে জানান যে, তিনি অফিসে ফিরে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিদ্যুৎ আধিকারিক শুভময় সরকার জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা জমা দেওয়ার পর মঙ্গলবার বিকালেই ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও বার্ধক্যের শেষ সম্বল জমি হারিয়ে এখন দিশেহারা ওই দম্পতি। (Electric Bill)











