সাবেক ছিটমহলের সব ভোটার এখন বিচারাধীন। তাঁদের নামের পাশে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন লিখে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ওইসব মানুষের ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কিনা, সেটা এখনও বিচারাধীন। ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই যেন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সাবেক ছিটমহলের প্রায় ১8 হাজারের বেশি ভোটারের ভাগ্য। স্বাভাবিকভাবে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে। নির্বাচন কমিশন তাদেরকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বলেই অভিযোগ। এই অবস্থায় কার্যত আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা। সোমবার ভোটাধিকারের দাবিতে কোচবিহারের জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা। (Cooch Behar)
২০১৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির মাধ্যমে তারা ভারতের কোচবিহার জেলার বাসিন্দাতে পরিণত হন। তবে সম্প্রতি সময়ে এসআইআর চালু হতেই বিপাকে পড়েছেন তারা । ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম নেই তাদের। ফলে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকাতেও নাম নেই । কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। ইতিমধ্যেই রবিবার ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর তারপরেই ভোটাধিকার পেতে আরও আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়ালেন ছিটমহলবাসী। (Cooch Behar)
এক বাসিন্দার কথায়, ৬৮ বছর নাগরিকত্বহীন থাকার পর ছিটমহল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালে তাঁরা নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ফের একবার বিচারাধীন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। এমনকী নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় তারা ভুগছেন। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন তাঁদের বারবার আশ্বস্ত করেছিল, কোনও সমস্যা হবে না। তারপরও ভোটার তালিকা প্রকাশে দেখা যাচ্ছে সাবেক ছিটমহলের প্রায় প্রত্যেক বাসিন্দার নামের ওপর বিচারাধীন লিখে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে পারে না। আর সেই কারণেই ভোটাধিকারের দাবিতে পথে নামেন আন্দোলনকারীরা। (Cooch Behar)

