Site icon Hindustan News Point

Panchasayar Violence: ভোট মিটতেই তাণ্ডব পঞ্চসায়রে, বিজেপি এজেন্টের অফিস-বাড়ি ভাঙচুর, ‘মাথা কেটে ফুটবল খেলার’ হুমকি

Panchasayar Violence

দ্বিতীয় দফার ভোটপর্ব শেষ হতেই উত্তপ্ত গড়িয়ার পঞ্চসায়র এলাকা (Panchasayar Violence) । যাদবপুর বিধানসভার অন্তর্গত দক্ষিণ ২৪ পরগনার পঞ্চসায়রে বিজেপির পোলিং এজেন্ট ও কর্মীদের উপর হামলা, অফিস ও বাড়িতে ভাঙচুর, গাড়ি নষ্ট এবং হুমকির অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ দায়ের হয়েছে পঞ্চসায়র থানায়।

অভিযোগ, ১৫৩ নম্বর বুথের বিজেপির পোলিং এজেন্ট শান্তনু সরকারের অফিস ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়। শান্তনু পেশায় সিভিল কন্ট্রাক্টর। তাঁর অফিসে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযোগ, গাড়ির ভিতরে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিও নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিদ্যুতের মিটারও ভেঙে ফেলা হয় বলে দাবি।

বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সঞ্জয় মাকাল, অমিত সর্দার, রবিন দাস-সহ প্রায় ১০০ জনের একটি দল এলাকায় হামলা চালায়। পাশাপাশি বিজেপি কর্মী প্রশান্ত ঘোষের বাড়িতেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

TMC vs BJP: দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই অশান্তি, হলদিয়ায় তৃণমূল অফিসে ভাঙচুর: Panchasayar Violence: ভোট মিটতেই তাণ্ডব পঞ্চসায়রে, বিজেপি এজেন্টের অফিস-বাড়ি ভাঙচুর, ‘মাথা কেটে ফুটবল খেলার’ হুমকি

(Panchasayar Violence) প্রশান্ত ঘোষ, বিজেপি কর্মী জানান, “কালকে আমি বাড়ি ছিলাম না। প্রায় ১৫০-২০০ জন লোক আসে বাড়ির সামনে। প্রথমে শান্তনু সরকারের গাড়ি ভাঙে। তারপর আমার বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় সঞ্জয় মাকাল। ওর নামে অনেক কেস আছে। কমিশনের হিট লিস্টেও নাম আছে। বাড়ির ক্যামেরা ভেঙে দেয়। তারপর কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এসে জয় বাংলা স্লোগান দেয় ও হুমকি দেয় ৪ তারিখে ফল ঘোষণার পর আমার মুন্ডু কেটে ফুটবল খেলবে। সঞ্জয় মাকাল দু-রাউন্ড গুলি চালায় শূন্যে। আমরা বিজেপি করি বলেই এই হামলা।”

বিজেপি পোলিং এজেন্ট শান্তনু সরকার বলেন, “ওদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। এখানে কাউকে বিজেপি করতে দিত না। বুথে বসতে দিত না। তিনটে বুথে ভয় দেখানো হয়েছিল। একজনের জায়গায় আমি বসি। আমি কেন বুথে বসেছি, কেন বিজেপির পতাকা লাগিয়েছি সেই কারণেই আমার অফিস ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। সঞ্জয় মাকাল ও অমিত সর্দার এই এলাকা চালায় অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে। আমাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

গোপাল বিশ্বাস, বিজেপি জেলা মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “২০২১ সালের পর থেকে আমরা এখানে আতঙ্কে আছি। আমাকে মারধর করা হয়েছে, বাড়ি ভাঙা হয়েছে। প্রতিদিন হুমকি দেওয়া হয়। আমরা বিজেপির সমর্থক বলেই টার্গেট করা হচ্ছে। এই নির্বাচনে তিনটে বুথে বসতে হয়েছে। সন্ত্রাসের ভয়ে কেউ বুথে বসতে চায় না। যে ছেলেটা সাহস করে বুথে বসেছিল, বুথ থেকে ফেরার আগেই তার বাড়িতে হামলা হয়েছে। সিসিটিভি ভেঙে দিয়েছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা।” (Panchasayar Violence)

বিজেপি কর্মী অঙ্কিতা সরকার বলেন, “কালকে বিজেপির এজেন্টদের ভয় দেখানো হয়েছিল। বিকেল থেকেই ১০০-১৫০ জনের জমায়েত হয়। পুলিশকে জানিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় ফেরার পথে পুলিশের সামনেই হামলা হয়। পরে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয়। বাড়ির গেট ভাঙা ছিল, গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। রাতে আবার ১০০-১৫০ জন এসে ওপেন ফায়ার করে। হুমকি দেয় ৪ তারিখে মাথা কেটে খেলা হবে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। গ্রেফতার না হলে ধর্নায় বসব। এই জঙ্গলরাজ আর চলতে পারে না।” (Panchasayar Violence)

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছেও অভিযোগ জানানো হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

West Bengal Election Result: স্ট্রংরুম এবার আরও স্ট্রং, EVM সুরক্ষায় QR কোড আইডি চালু কমিশনের: Panchasayar Violence: ভোট মিটতেই তাণ্ডব পঞ্চসায়রে, বিজেপি এজেন্টের অফিস-বাড়ি ভাঙচুর, ‘মাথা কেটে ফুটবল খেলার’ হুমকি
Exit mobile version