শিক্ষা ও পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তৎপর ইডি। কলকাতার নাকতলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টপাধ্যায়ের (Partha Chattaerjee) বাড়িতে হানা ইডি-র। শনিবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তিন গাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা, গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। কিছুদিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন পার্থ। এবার ফের কেন ইডি আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে পৌঁছলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিন সকালেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা নাকতলার বাড়িতে পৌঁছে যান। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর নাকতলার বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইডি সূত্রে খবর, এসএসসি-র একাদশ-দ্বাদশ দুর্নীতির তদন্তে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছেছে ইডি। জানা গিয়েছে, এই মামলায় মার্চ মাসে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একাধিকবার তলব করা হয়েছিল সিজিও কমপ্লেক্সে। তাঁকে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অসুস্থতার কারণ জানিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। এবার সরাসরি তাঁর বাড়িতেই পৌঁছে যায় তদন্তকারী দল। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে আধিকারিকরা পার্থর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
একইসঙ্গে শিক্ষা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মিডলম্যান প্রসন্নকুমার রায়ের নিউটাউনের অফিসেও তল্লাশি চালায় ইডি। অন্যদিকে পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তলব করা হয় সুজিত বোস এবং রথীন ঘোষকে। তবে নির্ধারিত দিনে ইডি দফতরে হাজির হননি সুজিত বসু। তাঁর পরিবর্তে ইডি দফতরে যান তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাই এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২২ সালের ২৩ জুলাই, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chattaerjee) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দু’টি ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৫০ কোটি টাকা ও গয়না উদ্ধার ঘিরে তোলপাড় পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। এরপর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর, প্রায় ৩ বছর ৩ মাস পর জেলবন্দি থাকার পর, জামিন পান তিনি। বর্তমানে অর্পিতা মুখোপাধ্যায় এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায় দু’জনই জামিনে মুক্ত। ২০২৬ সালে ১৮ মার্চ, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তলব করলেও তিনি উপস্থিত হননি। শারীরিকভাবে অসুস্থ আছেন বলে জানিয়েছিলেন। ১৬ তারিখ সালে অর্পিতা মুখোপাধ্য়ায়কেও তলব করা হয় ইডির তরফে। কিন্তু সেদিনের হাজিরা এড়ালেও ১৯ মার্চ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি।

