ইটের আঘাতে মাথা ফাটল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (kalyan Banerjee)। হুগলির চণ্ডীতলায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ। রবিবার এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গেলে বিক্ষোভের জেরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ধস্তাধস্তির মধ্যে মাথায় চোট পান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনায় তাঁর মাথা ফেটে যায় বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
শুধু তাই নয়, চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশনে জমা দিতে যাওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি চোর চোর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কিল-চড়়-ঘুষিও লাগে তাঁর গায়ে। তাঁকে উদ্দেশ্য করে দূর থেকে ছোড়া ঢিলে মাথা ফাটে। ঘটনার পর তড়িঘড়ি তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসাও করানো হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও বিরোধী শিবির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শনিবারই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত তৃণমূলকর্মীকে দেখতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার পাশাপাশি রীতিমতো মারধর ও ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশি নিরাপত্তায় সেখান থেকে বের হয়েই প্রথমে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে যান অভিষেক। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তারদের তরফে জানানো হয়, ভর্তির প্রয়োজন নেই। এরপর মিন্টো পার্কের ধারে আর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও একই কথা বলা হয়। এই পুরো সময়ে অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভিডিয়ো দেখে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সুয়োমোটো মামলা রুজু করে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এরই মধ্যে চণ্ডীতলার এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়। ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

