কলকাতায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সাম্প্রতিক অভিযানে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চালায়। এই অভিযানের সময়ই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
ইডির দাবি, নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। সংস্থার আধিকারিকদের বক্তব্য, আইন মেনেই তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ইডি। ED Raid
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তল্লাশির পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইডি ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাকে বিজেপি সরকারের নির্দেশে বিরোধীদের দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে। দলের নেতারা দাবি করেন, তদন্তের নামে ভয় দেখানো ও মানসিক চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে।
বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান এবং দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তদন্ত হতেই পারে। বিজেপি নেতাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি অনৈতিক। ED Raid
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, তদন্তকারী সংস্থার কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ যেমন গুরুতর, তেমনই তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখাও জরুরি। পুরো বিষয়টি এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরের কেন্দ্রে রয়েছে। এই অভিযানের পর কলকাতার রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে – তদন্ত কতটা এগোবে এবং এর প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে কতখানি পড়বে।











