রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে (Ramkrishna Paramhans Jayanti 2026) শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ফের সম্বোধন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে তিনি রামকৃষ্ণদেবের নামের আগে ‘স্বামী’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এই সম্বোধন ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), যিনি প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতা বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, রামকৃষ্ণ পরমহংস আধ্যাত্মিকতা ও সাধনাকে মানবতার কল্যাণের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাঁর বাণী যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। তবে ‘স্বামী’ শব্দ ব্যবহারের পরই প্রশ্ন ওঠে, কারণ সাধারণত রামকৃষ্ণদেবকে ‘ঠাকুর’ বলেই সম্বোধন করা হয়, আর ‘স্বামী’ উপাধি ব্যবহার করা হয় তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যদের ক্ষেত্রে, যেমন স্বামী বিবেকানন্দ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লেখেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর এই সম্বোধনে বিস্মিত। তাঁর মতে, বাঙালি মনীষীদের নামের সঙ্গে অনুপযুক্ত উপসর্গ জুড়ে দেওয়া উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে সর্বত্র ‘ঠাকুর’ হিসেবেই মানা হয় এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ঐতিহ্যেও ‘ঠাকুর-মা-স্বামীজি’—এই পবিত্র ত্রয়ীর স্বতন্ত্র পরিচয় রয়েছে।
Shocked again!
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) February 19, 2026
Yet again, our Prime Minister aggressively displays his cultural insensitivity to great figures of Bengal. Today is the janmatithi of Yugavatara (God's incarnation in our age) Sri Sri Ramakrishna Paramahamsadeva. While trying to hail the great saint on this… https://t.co/f7GqFkbcHy
মমতা আরও বলেন, আধুনিক ভারতের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বাঙালি মনীষীদের ক্ষেত্রে নতুন নতুন বিশেষণ প্রয়োগ না করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এমন পদক্ষেপ বাংলার আবেগকে আঘাত করতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে সংসদে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিম দা’ বলে সম্বোধন করেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মোদী। সেই সময়েও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তীব্র আপত্তি জানানো হয়।
সব মিলিয়ে, বাঙালি মনীষীদের সম্বোধন ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক তরজার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, যা আগামী দিনে আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

