রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূলের জামানায় চলতে থাকা সমস্ত দুর্নীতি বন্ধ করতে তৎপর সরকার। এবার রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতি এবং নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে কড়া অবস্থান নিতে শুরু করেছে খাদ্য দফতর। নয়া খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া আজ জানিয়ে দিলেন, এখন থেকে রেশনে আর আটা দেওয়া হবে না, তার বদলে উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে পরিষ্কার গম। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, রেশন ব্যবস্থায় কোনওরকম দুর্নীতি বা নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ আর বরদাস্ত করা হবে না।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে ছিল প্রথম বৈঠক। সেদিন বৈঠকে আলোচনার পর থেকেই খাদ্য ও সরবরাহ দফতরে একপ্রকার শুদ্ধিকরণ অভিযান শুরু করেছেন অশোক কীর্তনিয়া। বিধানসভায় শপথ নেওয়ার পর তিনি জানান, সরকারি গুদামে বর্তমানে যতটা আটা মজুত রয়েছে, তা ধাপে ধাপে বিলি করে দেওয়া হবে। তবে ভবিষ্যতে নতুন করে আর রেশনে আটা দেওয়া হবে না। তার পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক পাঠানো উন্নত মানের গম সরবরাহ করা হবে সাধারণ মানুষকে। (Ration Atta Distribution)
খাদ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ১৫ বছরে দীর্ঘদিন ধরেই রেশনের আটার মান নিয়ে বহু অভিযোগ জমা পড়ছিল। বহু মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসের খাবার খরচা অনেকটাই নির্ভর করে এই রেশনের ওপর। সেই জায়গায় অনেক ক্ষেত্রেই নিম্নমানের আটা বিলির অভিযোগ উঠেছিল। ওই আটা বা চাল মানুষের খাওয়ার উপযোগী ছিল না। সেই কারণেই এবার সরাসরি গম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, গম সরবরাহ করলে খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা অনেক সহজ হবে এবং মাঝপথে কারচুপি বা অনিয়মের সুযোগও কমে যাবে।
Suvendu Adhikari: লাল কার্পেটে ষষ্ঠাঙ্গে শুয়ে প্রণাম, বিধায়ক হিসেবে শপথ শুভেন্দুর
শুধু খাদ্যের মান নয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘কোনও দুর্নীতি আর বরদাস্ত করা হবে না। জুন মাস থেকে কোনও রেশন দোকানে নিম্নমানের চাল বা পুরোনো আটা বিলির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই দোকানের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে।’ (Ration Atta Distribution)
তৃণমূল সরকারের আমলে খাদ্য দফতরকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কোনও ব্যক্তি বা আধিকারিক দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেই জানিয়েছে সরকার।
এই নয়া নির্দেশিকার পর প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, খাদ্য দফতরে এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর হলে রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা অনেকটাই বাড়বে এবং সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থাও ফিরবে।

