রেশনের চাল পাচার করতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও। গোডাউনে বস্তা বদল করার সময়ই ধরে ফেলল গ্রামবাসীরা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয় নদিয়ার শান্তিপুরের ফুলিয়ায় (Ration Corruption)। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেশনের চাল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর আগেই সেই চাল গোডাউন থেকে বীরভূমে পাচার হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয়রা গাড়িটিকে আটক করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে শান্তিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থলে পৌঁছন খাদ্য দফতরের আধিকারিকেরা। ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বরাও।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কীভাবে সরকারি লোগো দেওয়া রেশনের চাল বস্তা বদল করে অসাধু ব্যবসায়ীরা পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছিল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। খাদ্য দফতরের এক আধিকারিকদের দাবি, ‘স্থানীয়দের এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে কন্ট্রোল অর্ডার ২০২৪ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত সাপেক্ষে গোটা বিষয়টি বেরিয়ে আসবে। কোনও দোষী ধরা পড়লে অবশ্যই তার শাস্তি হবে। আমরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যা যা রিপোর্ট করার সবটাই করব। কেন এই ঘটনা ঘটনা সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে’।
অন্যদিকে, গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৬০০ বস্তা চাল উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গোডাউনের মালিক বর্তমানে পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া চালের উৎস এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে।
আগের সরকারে রেশনে ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। নতুন সরকারের খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েই অশোক কীর্তনিয়া বলেছিলেন, দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা ভাঙবেন তিনি। সেইমতোই শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দুর্নীতিতে যুক্তদের খুঁজে বের করা হবে। একইসঙ্গে বলেন, “আমার প্রাণ গেলেও দুর্নীতি রুখব।” সেই মতো জেলায় জেলায় কাজ শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

