বিজেপি সরকারের নতুন মন্ত্রী তাপস রায়ের (Tapas Roy) একটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল ভাঙার আভাস দিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে দাবি করেছিলেন, প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। সেইমতো সেই মতো শোনা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ৫০ জন বিক্ষুদ্ধ তৃণমূলের বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি বিধানসভায় জমা দিতে চলেছেন তিনি। বিধানসভার ভিতরে প্রায় ২ ঘণ্টা ছিলেন ঋতব্রত। বিকেলে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে চিঠি নিয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেন।
ঋতব্রত জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে বিধানসভায় এসেছিলেন। পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে কলকাতার হোটেলে বিধায়কদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের যে খবর ছড়িয়েছে তাও উড়িয়ে দিলেন বিধায়ক। তবে নতুন তৃণমূলের জল্পনা জিইয়ে রেখে বললেন, “আমি আজ-এ বিশ্বাসী, কাল কী হবে জানি না, বলতে পারব না।”
বিধানসভায় সই কাণ্ডের সূত্র ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দেন ঋতব্রত। এরপরই উঠে আসে নতুন তৃণমূলের তত্ত্ব। শোনা যায়, এবার নাকি ৫০ বিক্ষুব্ধ বিধায়ককে নিয়ে নতুন তৃণমূল গঠন করতে চলেছেন ঋতব্রত। বিধানসভায় চিঠি দেওয়া নিয়ে তাকে প্রশ্ন করতেই ঋতব্রত বলেন, ‘চিঠি নিয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। গল্পের গরু তো গাছে তুলতে পারবেন না’!
এদিন তাপস রায়ের পোস্ট নিয়ে ঋতব্রত বলেন, “উনি কী পোস্ট করেছেন উনি বলতে পারবেন। তবে আমি নাকি দক্ষিণ কলকাতার হোটেলে বৈঠকে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে বসেছি বলে শোনা যাচ্ছে। আমি বলব, আমার মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন দেখুক। আমি কোথায় ছিলাম।” যদিও রথীন ঘোষ, শিউলি সাহার সঙ্গে দেখা করার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।
সই বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “শোভন দাকে (শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়) দলনেতা করার কোনও রেজিলিউশন হয়নি। শোভন দাকে দলনেতা করার জন্য রেজিলিউন পেশ করতে হবে। আমি অন্তত কোনও রেজিলিউশনে সই করিনি। আমি প্রশাসক নই বা এজেন্সি নই। যে ঠিক করে দেব কে জানত। ওখানে অনেকেই ছিলেন। এখন তাদের মধ্যে সবার চাকরি আছে কি না তাও আমি জানি না। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের অনেক ছেলে-মেয়েদের চাকরি চলে গেছে এবং তাদের আবার ব্যাক ডেটে রেগিনেশন দিতে হয়েছে। এখন বোঝা যাচ্ছে ব্যাক ডেটের সই করাটা নতুন কর্পোরেট স্টাইলের তৃণমূলের ডিএনের মধ্যে এটা ঢুকে গেছে।”

