সোনারপুর দক্ষিণে এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ভোট গণনার দিন। জয়ের ঘোষণা হতেই চোখের জল আর আটকে রাখতে পারলেন না রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (Roopa Ganguly) । ১,২৮,৯৭০ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি যখন জনতার সামনে এলেন, তখন তাঁর কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতা, ক্লান্তি আর এক গভীর দায়িত্ববোধের সুর।
জয়ের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (Roopa Ganguly) বলেন, “আজকে আমি তোমাদের কথা দিচ্ছি। এই জয় সোনারপুর দক্ষিণের মানুষদের। তারাই আমাকে জেতালেন, তাদেরকেই আমার নমস্কার।” এই কয়েকটি কথাতেই যেন ফুটে উঠল তাঁর আবেগ, মানুষের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা আর প্রতিশ্রুতি।
দীর্ঘদিনের লড়াই, প্রচার আর মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—সবকিছুর ফল এই জয় বলে মনে করছেন তিনি। রূপা জানান, অনেকদিন ধরেই তিনি একটি ‘প্ল্যান অফ অ্যাকশন’ তৈরি করে রেখেছেন। এলাকার সমস্যাগুলি চিহ্নিত করতে তিনি নিজে ঘুরেছেন, নোট ডাউন করেছেন প্রতিটি খুঁটিনাটি। তাঁর কথায়, “অনেক কাজের লিস্ট আছে। অনেক কিছু এখনও হয়নি, প্রচুর কাজ করতে হবে।”
জয়ের আনন্দের মাঝেও তিনি মনে করিয়ে দেন কর্মীদের ত্যাগের কথা। “আমার কার্যকর্তারা অনেকদিন ধরে ঘুমোয়নি। আজ আমরা সবাই একটু ঘুমব, না হলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়বে,”—বলতে গিয়ে তাঁর গলায় স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু তবুও দায়িত্ব থেকে একচুলও সরেননি তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তিনি আশ্বস্ত করেন সাধারণ মানুষকে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা কম। একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ‘বদলা নয়, বদল’ বার্তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সত্যিকারের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এই লড়াই।
সোনারপুর দক্ষিণের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথাও তুলে ধরেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায় । (Roopa Ganguly) তিনি বলেন, “মানুষ ধৈর্য ধরতে ধরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এবার তারা নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছে কোন উন্নয়ন হচ্ছে, কোথা থেকে সাহায্য আসছে।” তাঁর মতে, এই বিশ্বাসই তাঁকে জয়ের পথে নিয়ে এসেছে।
শেষে (Roopa Ganguly) তিনি বলেন, “আজ থেকে সোনারপুর দক্ষিণের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব আমার। এই বিশ্বাস রাখতে হবে, আমি তাদের পাশে আছি।” জয়ের মুহূর্তে এই আবেগঘন বার্তাই যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল সোনারপুর দক্ষিণে।
Mamata Banerjee: বঙ্গ ভোটে ভরাডুবি তৃণমূলের! হার মমতার ,২০০ পার বিজেপি

