গতানুগতিক নয়। আধুনিক ভাবধারার মধ্য দিয়ে পঠনপাঠনের জন্য সল্টলেক শিক্ষা নিকেতনের ইতিমধ্যেই নাম কুড়িয়েছে (Saltlake Shiksha Niketan)। পড়াশুনোর পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়াটা অন্যতম বৈশিষ্ট। সেসব কথা মাথায় রেখেই স্কুলের ২২ তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। নাম দেওয়া হয় ‘সপ্তক ২০২৬’।
ধন ধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিরা। ছিলেন ইমামি গ্রুপের ডিরেক্টর রাধেশ্যাম গোয়েঙ্কা, বেঙ্গল এনার্জির চেয়ারম্যান ও এমডি ওম জালান, হিন্দুস্তান ক্লাব ও এমসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি ঋষভ কোঠারি-সহ বিশিষ্টরা। এছাড়াও সল্টলেক শিক্ষা নিকেতন ও সল্টলেক শিক্ষা সদনের কর্ণধারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান ললিত বেরিওয়ালা, সেক্রেটারি সঞ্জয় আগরওয়াল, ট্রেজারার রাধেশ্যাম গুপ্তা, প্রিন্সিপাল মিস মধুস্মিতা বেজবরুয়া, প্রেসিডেন্ট ভান্বরলাল জাজোদিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট গৌরীশঙ্কর খাজাঞ্চি, সেক্রেটারি জগদীশ প্রসাদ আগরওয়াল, ট্রেজারার হরিশ আগরওয়াল-সহ আরও অনেকে।
এবারের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘সপ্তক’, সংখ্যা ৭ এর রহস্যময়তাকে নিয়ে সাতটি স্বর, সাতটি রং, বিশ্বের সাত আশ্চর্য, সাত মহাদেশ এবং নক্ষত্রমণ্ডলের ধারণাকে একসূত্রে গেঁথে আলোকোজ্জ্বল উপস্থাপনা। পৃথিবী থেকে মহাকাশ পর্যন্ত এক কল্পনাময় যাত্রায় দর্শকদের নিয়ে যায় এই অনুষ্ঠান। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের নৃত্য, সঙ্গীত ও নাট্য পরিবেশনা ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত শ্যামসুন্দর বেরিওয়ালার স্বপ্নের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। চেয়ারম্যান ললিত বেরিওয়ালা তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের দুই দশকের যাত্রাপথ স্মরণ করেন এবং জানান, কীভাবে তাঁর বাবা মাত্র ৪০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে সেক্টর ফাইভের পিছনে এই স্কুল শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমাদের ২২ তম প্রতিষ্ঠা দিবস শুধু উদযাপন নয়, শিক্ষা ও স্বপ্ন দেখার এক অদম্য স্পিরিটের প্রতিফলন।
প্রিন্সিপাল মধুস্মিতা বেজবরুয়া বলেন, “শিক্ষাই বিশ্ব পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার—এই বিশ্বাসে আমরা অটল। আমাদের লক্ষ্য ছাত্রছাত্রীদের এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে তারা সীমার বাইরে চিন্তা করতে পারে এবং সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে অবদান রাখতে পারে।”
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সৌরেন্দ্র ও সৌম্যজিত জুটির গান এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
সবমিলিয়ে বলা যায় শিক্ষাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি চরিত্র গঠন ও জীবনদক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিরন্তর বজায় রেখে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

