কাঁথির ছোট্ট টেলারিং দোকান থেকে মহাকরণের শপথমঞ্চ— দীর্ঘ পথচলার সাক্ষী এক পুরনো সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্কের আবেগেই এখন আপ্লুত পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির প্রবীণ দর্জি রবীন্দ্র চৌধুরি, যাঁকে এলাকার মানুষ চেনেন ‘রবিদা’ নামে। কারণ, বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ব্রিগেড ময়দানে শপথ নেওয়ার সময় যে পাঞ্জাবিটি পরেছিলেন, সেটি তৈরি হয়েছিল এই রবিদার হাতেই। (Suvendu Adhikary)
কাঁথির বহু পুরনো এই দর্জির দোকানে বসেই আজ স্মৃতিচারণায় ডুব দিলেন রবীন্দ্রবাবু। তাঁর কথায়, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই শুভেন্দু অধিকারী তাঁর দোকানে পোশাক বানাতে আসতেন। তখন থেকেই তৈরি জামা-পাঞ্জাবি পরার অভ্যাস ছিল শুভেন্দুর। এত বছর পরেও সেই অভ্যাস বদলায়নি বলেই জানান তিনি। ছোটবেলার শুভেন্দুকে মনে করতে গিয়ে রবিদা বলেন, শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিলেন শুভেন্দু। অকারণে আড্ডা বা সময় নষ্ট করতে দেখেননি কখনও। সুযোগ পেলেই চলে যেতেন রামকৃষ্ণ মিশনে। (Suvendu Adhikary)
বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেও পুরনো সম্পর্ক ভোলেননি শুভেন্দু— এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গিয়েছে প্রবীণ দর্জিকে। তাঁর দাবি, রাজনীতির জগতে বহু মানুষকে দেখেছেন বড় জায়গায় পৌঁছে পুরনো পরিচিতদের ভুলে যেতে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী সেই দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কাঁথি থেকে কলকাতার প্রশাসনিক কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছেও তিনি এখনও ‘রবিদা’-র সঙ্গে আগের মতোই সম্পর্ক রেখে চলেছেন। (Suvendu Adhikary)
জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিন যে পাঞ্জাবিটি শুভেন্দু পরেছিলেন, তার অতিরিক্ত কাপড়ও যত্ন করে তুলে রেখেছেন রবীন্দ্র চৌধুরি। সেটিকে তিনি আশীর্বাদ ও স্মৃতিচিহ্ন হিসেবেই দেখছেন। শুভেন্দুর জন্য পোশাক তৈরি করেন বলেই এখন জেলার বহু রাজনৈতিক নেতাও তাঁর দোকানে আসেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় গর্ব, ছোটবেলার সেই ‘শুভেন্দু’ আজও তাঁকে ভুলে যাননি।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ? প্রথম বৈঠকের পরেই বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

