Site icon Hindustan News Point

সোনারপুরে কাউন্সিলারকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে পোস্টার, বাড়িতে হামলার অভিযোগ; আটক ৩

Sonarpur Poster Row

সোনারপুর পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সোনালী রায় ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকায় ‘চোর’ স্লোগান দিয়ে পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। (Sonarpur Poster Row) অভিযোগ, পোস্টার দেওয়ার পর একদল ব্যক্তি কাউন্সিলারের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাউন্সিলার সোনালী রায় ও তাঁর স্বামী বিজিত রায়ের বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে এলাকায় পোস্টার লাগানো হয়। সেই পোস্টারকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, পোস্টার দেওয়ার পর কাউন্সিলারের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়।

(Sonarpur Poster Row) কাউন্সিলার সোনালী রায়ের দাবি, সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভায় লাভলী মৈত্র বিধায়ক থাকাকালীন দীর্ঘদিন তিনি কার্যত ঘরবন্দি অবস্থায় ছিলেন। সেই সময়ও একাধিকবার হুমকি পেয়েছিলেন। সম্প্রতি ফের সক্রিয়ভাবে সরকারি কাজকর্ম শুরু করার পরই এই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

ঘটনার জেরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। (Sonarpur Poster Row) সোনারপুর দক্ষিণের ২ নম্বর মণ্ডল বিজেপি সভাপতি বলেন, “এই ধরনের ঘটনার কোনও সমর্থন আমরা করি না। যে দলেরই লোক হোক, এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। আমরা চাই এলাকার উন্নয়ন হোক। যারা অশান্তির সৃষ্টি করবে, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। অভিযুক্তরা বিজেপির কর্মী নয়, বিজেপির নাম ব্যবহার করে ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”

(Sonarpur Poster Row) এদিকে অভিযোগকারী শ্রীতম মজুমদার দাবি করেন, গত ১০ বছর ধরে এলাকার একটি ক্লাব কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং সেখানে একটি সিন্ডিকেট পরিচালিত হত। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসা বা নির্মাণকাজ করতে এলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত, কিন্তু সেই অর্থ ক্লাবের কাজে ব্যবহার না হয়ে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খরচ করা হতো। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ভয় এবং মিথ্যা মামলার আশঙ্কায় কেউ মুখ খুলতে পারেননি।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি মণ্ডলের অভিযোগ, কাউন্সিলার হিসেবে সোনালী রায় এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও রাস্তা সংস্কার-সহ একাধিক সমস্যার সমাধান হয়নি। ভোটের আগে ও পরে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ হয়নি বলেই দাবি তাঁর।

তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কাউন্সিলারের স্বামী বিজিত রায় বলেন, “পোস্টার বা ব্যানার দিতেই পারে। কিন্তু অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ থাকলে প্রশাসনের কাছে যাওয়া উচিত। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক। পুলিশ তদন্ত করুক, আমরা তাতে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

নতুন তৃণমূলের আত্মপ্রকাশে ক্ষোভ, সন্দীপন সাহার বাড়ির সামনে ‘চোর’ স্লোগান বিজেপির


Exit mobile version