গত ২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচন। মানুষের মতামত এখন বন্দী রয়েছে স্ট্রং রুমের ঘেরাটোপে। নির্বাচন কমিশনের এখন একটাই দায়িত্ব,৪ মে ভোট গণনার আগে পর্যন্ত এই স্ট্রং রুমগুলিকে কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা। যদিও ইতিমধ্যে প্রথম পর্বের ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্ট্রংরুমে নিরাপত্তা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলের সকল নেতা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন গণনার আগে পর্যন্ত স্ট্রংরুমগুলিতে কড়া নজরদারি রাখতে। সেই নির্দেশ পালন করতেই জোড়াফুল শিবিরের প্রার্থী এবং কর্মীরা পৌঁছে গিয়েছেন যাদবপুরের আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় পলিটেকনিক কলেজেও। (West Bengal Election)
এবার যাদবপুরের আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় পলিটেকনিক কলেজে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি এখানে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। গোটা এলাকা কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের সামনে করা হয়েছে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড। রাস্তার মাঝ বরাবর বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে উঁচু প্রাচীর, যাতে অনধিকার প্রবেশ আটকানো যায়। (Strongroom Security)
যাদবপুরের এই গণনাকেন্দ্রে ভাঙড়, সোনারপুর উত্তর, সোনারপুর দক্ষিণ, বারুইপুর পশ্চিম, বারুইপুর পূর্ব, জয়নগর ও কুলতলি—এই সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে। আর তাই গণনার আগে পর্যন্ত স্ট্রংরুমে ঢুকে বিরোধী শিবির যাতে কোনভাবেই কারচুপি না করতে পারে তার জন্য তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী লাভলী মৈত্র সহ অন্যান্যরা।
এদিন স্ট্রংরুম পাহারা দিতে গিয়ে লাভলী বলেন, ‘আমাদের নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ভোট গণনার দিন সকাল পর্যন্ত যাতে এই সব স্ট্রংরুমে নিরাপত্তায় কোনও খামতি না থাকে তাই সেই নির্দেশ পালন করতে এসেছি।’ পাশাপশি, পাহারা না দিলে জনগণের রায় পাল্টে যেতে পারে, বলে নাম না করেই বিরোধীদের কটাক্ষ করলেন তৃণমূল প্রার্থী। (Strongroom Security)
এছাড়াও এদিন একাধিক বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের দাবি, বিজেপি এবার ক্ষমতায় আসতে পারবে না এটা জানার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন স্ট্রংরুমে নিরাপত্তায় নানা কারচুপি করার চেষ্টা করছে। কখনো সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রেখে, কখনও আবার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে অন্যত্র স্ট্রংরুম করে প্রার্থীদের হয়রানি বাড়িয়েছে। তবে এই সব কিছু করেও কোনও লাভ হবে না বলেই মনে করছে ঘাসফুল শিবির। তাদের বিশ্বাস ‘বাংলার মানুষ এবারও বাংলার মেয়েকেই চায়।’ (West Bengal Election)

