পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবান্নে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের প্রশাসনিক টিম সাজাতে বড় পদক্ষেপ নিলেন। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকে (Subrata Gupta)। প্রশাসনিক মহলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
১৯৯০ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta) দীর্ঘদিন রাজ্য ও কেন্দ্র — দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। প্রশাসনিক দক্ষতা, শিল্পনীতি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে আমলাতন্ত্রে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিশেষ রোল অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করেছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বও তিনি সামলেছেন দক্ষতার সঙ্গে।
তবে সুব্রত গুপ্তকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় সিঙ্গুরের ন্যানো প্রকল্প নিয়ে। বাম আমলে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর থাকাকালীন টাটা মোটরসের ন্যানো কারখানার জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় তিনি (Subrata Gupta) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। শিল্পায়নের প্রশ্নে সেই সময় বাংলার রাজনীতিতে যে বিস্ফোরক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার কেন্দ্রে ছিলেন সুব্রত গুপ্তও।
শুধু শিল্প নয়, কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসেও রয়েছে তাঁর (Subrata Gupta) নাম। ২০১২-১৩ সালে কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেডের প্রধান হিসেবে কাজ করার সময়ই দেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। হাওড়া ময়দান থেকে গঙ্গার তলা দিয়ে মেট্রো নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনিই। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এত বড় প্রকল্প সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরও রাজ্যে তিনি প্রাপ্য গুরুত্ব পাননি। অভিযোগ উঠেছিল, তৎকালীন রাজ্য সরকার তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে সরিয়ে তুলনামূলক কম গুরুত্বের বিভাগে পাঠায়। ২০২০ সালের পর প্রায় তিন বছর তিনি উদ্যানপালন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বায়োটেকনোলজির মতো দপ্তরে দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় আমলাতন্ত্রের অন্দরেই এই নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে আরও বড় দায়িত্ব দেয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রকের সচিব হন। ২০২৫ সালের মে মাসে অবসর নেন সুব্রত গুপ্ত।
আইআইটি খড়্গপুরের প্রাক্তনী সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta) লন্ডন থেকে এমবিএও করেছেন। প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি নীতি নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর অভিজ্ঞতা এখন নতুন বিজেপি সরকারের কাছে বড় সম্পদ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে ২০১৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার শান্তনু বালাকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক পদে ছিলেন তিনি।
বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক স্তরে এই দ্রুত রদবদল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, নতুন সরকার শুরু থেকেই অভিজ্ঞ আমলাদের উপর ভরসা করে দ্রুত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাইছে। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন সুব্রত গুপ্ত।

