পুরনিয়োগ মামলায় সোমবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় সুজিত বসুকে। মঙ্গলবার সকালে আদালতে তোলার আগে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগর হাসপাতালে। তারপর তাঁকে নিয়ে যাওয়ার হয় ব্যাঙ্কশাল কোর্টে। সুজিত বসুকে (Sujit Bose Arrest) হেফাজতে নিতে চেয়ে আবেদন করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
ইডির আইনজীবী আদালতে সওয়াল করে বলেন, করোনার সময় সুজিত বসুর রেস্তরাঁ বন্ধ থাকলেও কোটি টাকার উপর লেনদেন হয়েছে । তিনি একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন, এখন তিনি ছাড়া পেলে তদন্ত প্রভাবিত করবেন বলে আশঙ্কা করছে ইডি। ফলে ইডির তরফে সুজিত বসুকে ১০ দিনের জন্য হেফাজতে নিতে চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। সুজিত বসুর আইনজীবীর প্রশ্ন, ২০২২-২৩ সালের নথির ভিত্তিতে কেন এখন গ্রেফতার করা হচ্ছে তাঁর মক্কেলকে। সিবিআই পুর-নিয়োগ মামলায় যে চার্জশিট দিয়েছে, তাতেও সুজিতের নাম নেই বলে সওয়াল করেছেন তাঁর আইনজীবী।
ইডির আইনজীবীর দাবি, অর্থ কোথায় কীভাবে লেনদেন হয়েছে, সুজিতের পরিবারের নামে যে সব সম্পত্তি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। সুজিত এবং তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে কোটি কোটি টাকা ডিপোজিটের হিসাবও মিলেছে বলে দাবি ইডির। তাদের দাবি, চাইনিজ রেস্তরাঁ, বেঙ্গল ধাবা এবং অপর একটি রেস্তরাঁয় নগদ ডিপোজিট হয়েছে। ইডির আইনজীবীর সওয়াল, দেখা গিয়েছে অতিমারির সময় লকডাউনে সুজিতের রেস্তরাঁয় মোটা অঙ্কে টাকার বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় তো রেস্তরাঁ বন্ধ ছিল, কর্মচারীরা বাড়ি চলে গিয়েছিলেন।
ইডির আইনজীবীর প্রশ্ন, তাহলে কী করে কোটি টাকার বিক্রি হল। ইডির দাবি, এই টাকা তছরুপ সম্পূর্ণ বেআইনি । একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তৃণমূল নেতার টাকা লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে, যার কোনও আইনগত যোগাযোগ বা কারণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সুজিত বসুকে আদালতে নিয়ে গেলে বিক্ষোভ দেখান ব্যাঙ্কশাল কোর্টেরই অন্যান্য আইনজীবীরা। আদালতেরই একদল আইনজীবীদের অভিযোগ, সুজিত বসুকে কোট লকাপে না রেখে বাইরে ভি আই পি ট্রিটমেন্টে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনজীবীদের বিক্ষোভের জেরে সুজিত বসুকে লকআপে রাখেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা।

