এক্সিট পোলের জল্পনাকে কার্যত গুরুত্ব না দিয়েই রাজ্যে বিজেপির নিশ্চিত জয়ের দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কোনও বুথ ফেরত সমীক্ষার ওপর নির্ভর করি না। আমার নিজস্ব অ্যানালিসিস আছে, আর সেই হিসাব বলছে—এবার বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে।” (Suvendu Adhikary)
শুভেন্দুর দাবি, ২০১১ সালের পরিবর্তনের থেকেও এবার মানুষের মধ্যে সরকারের বদল চাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। তাঁর কথায়, “মানুষ চুপচাপ ভোট দিয়েছে, কিন্তু সেই ভোটে বড় বার্তা রয়েছে।” বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেন, হিন্দু ভোটারদের বড় অংশ এবার একজোট হয়ে বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোট নিয়েও বড় দাবি করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, “মুসলিম ভোটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, প্রায় ৮ শতাংশ, বিজেপির দিকে এসেছে এবং এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। হিন্দু ভোটের বড় অংশ ও মুসলিম ভোটের ৮ শতাংশ নিয়েই এবার বিজেপির ক্ষমতায় আসছে বলে দাবি করেন তিনি। (Suvendu Adhikary)
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এই ফলাফল অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত হতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে নয়। আমরা বুথ ধরে ধরে পর্যালোচনা করেছি, কোথায় কত ভোট পড়েছে তা আমাদের কাছে পরিষ্কার।”
এই প্রসঙ্গে ভবানীপুরের উদাহরণ টেনে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, সেখানে তৃণমূলের পর্যাপ্ত এজেন্ট পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, “অনেক জায়গায় তৃণমূলের নিজস্ব কর্মী না থাকায় বাইরে থেকে ছেলেদের টাকা দিয়ে এজেন্ট হিসেবে বসানো হয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গণনার দিন তৃণমূলের পক্ষ থেকে গণ্ডগোল তৈরি করা হতে পারে। (Suvendu Adhikary)
ইভিএম সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। তৃণমূলের তরফে ইভিএম চুরির আশঙ্কার কথা বলা হলেও শুভেন্দুর পাল্টা দাবি, “এগুলো পুরনো অজুহাত। গত ১৫ বছর ধরে একই অভিযোগ শুনে আসছি। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।”
এই আবহে প্রশাসনও সতর্ক। জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “গণনার দিন শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি স্ট্রংরুম ও গণনা কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া মোতায়েন থাকবে। কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” (Suvendu Adhikary)
সব মিলিয়ে, ভোট-পরবর্তী রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে বিজেপির জয়ের আত্মবিশ্বাসী দাবি, অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা অবস্থান সব কিছুরই চূড়ান্ত জবাব মিলবে গণনার দিন।

