ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর বারুইপুরে নাবালিকা খুনে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এই ঘটনায় দোষী কাউকেই রেয়াত করা হবে না। দোষীকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। এই ঘটনায় সুবিচার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি গণপিটুনি ও পুলিশদের উপর হামলার ঘটনা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। গতকাল বারুইপুরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পিছনে ‘ষড়যন্ত্রের’ ইঙ্গিত পেয়েছেন (Suvendu Adhikari)।
সোমবার মিত্র ইনস্টিটিউশনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই বারুইপুরকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, “নাবালিকার অভিভাবকের সঙ্গে আমার আগামিকাল দেখা হবে। উনি যা যা বলবেন, আমি তাই করব। ওখানকার যে রাজনৈতিক দল আছে, তাদেরও যদি কিছু পরামর্শ থাকে তবে আমি কাল শুনে নেব।”
তিনি আরও বলেন, “বড় অ্যাকশন হবে। আমি কাল নিজে যাচ্ছি বারুইপুর সুপারের অফিসে। মিসিং ডায়েরির ব্যাপারে লোকাল পুলিশেরও কী ভূমিকা আছে, তারও অ্যাসেসমেন্ট হবে। পুলিশ অফিসারের যদি কোনও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা (ইরেসপন্সিবিলিটি) পাওয়া যায়, তবে তাকে দরজা দেখানোর কাজটাও পুলিশ মন্ত্রী করবেন। একদম নো কম্প্রোমাইজ।”
নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমি কালকেই ওর বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। ওর বাবা এই জঘন্যতম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। আমি তদন্তের মাঝপথে বিস্তারিত কিছু বলব না, তবে এটুকু নিশ্চিত করছি—পরিবার যেভাবে বিচার চেয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা চেয়েছে, তার প্রত্যেকটি তাঁরা পাবেন। ওঁরা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন।”
গতকালের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ নিয়ে বলেন, “রেললাইনে যেভাবে রেলপথকে উপড়ানো হয়েছে, তা দেখে আমাদের ২০১৯ সালের সিএএ (CAA) বিরোধী আন্দোলন কিংবা কিছুদিন আগের ওয়াকফ সংশোধনী বিল বিরোধী হিংসাত্মক আন্দোলনের অতীত ইতিহাস মনে পড়ছে।”
বারুইপুরকাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত। নাবালিকা খুনে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ৩। পুলিশ সূত্রে খবর, আনন্দ সর্দার নামে একজনকে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই নাকি মূল অভিযুক্ত। নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকে তাঁকেই নাকি খুঁজছিল পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্তে ৬ সদস্যের দলের সিট গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তের খোঁজে রবিবার রাতভর তল্লাশি চালায় পুলিশ। সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

