প্রত্যাশিত জয় না কি কঠিন লড়াইয়ের ফসল, বিতর্ক যাই থাক, নন্দীগ্রামের (Suvendu Adhikari) মাটিতে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে পা রাখতেই বিপুল সংবর্ধনায় ভেসে গেলেন তিনি। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে এদিন আক্ষরিক অর্থেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এলাকা। আকাশ-বাতাস মুখরিত হয় ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে।
নন্দীগ্রাম থেকে দলের নেতা-কর্মীদের কাছে শান্তি বজায় রাখা এবং সংযত থাকার আবেদন জানালেন শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “ওরা অনেক অত্যাচার করেছে। কিন্তু কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। ওরা যা করেছে, আপনারা করবেন না। শান্তি বজায় রাখতে হবে।” বিজয় মিছিল নিয়ে নন্দীগ্রামের কর্মী-সমর্থকদের শুভেন্দু বলেন, “৯ তারিখের পর পুলিশের অনুমতি নিয়ে শান্তিতে করবেন। এখন দু’-তিনটে দিন বিজয় মিছিল করবেন না।” তৃণমূলের কোনও কার্যালয়ে হাত না দেওয়ারও বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু।
শান্তির বার্তা দিলেও অপরাধীদের ছেড়ে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে আইন মেনে প্রত্যেকটি পুরনো মামলা পুনরায় চালু করবে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কর্মীদের মুক্তি ও আইনি বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। গুন্ডাবাহিনীকে মোকাবিলা করার দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এদিন বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষের ঋণ আমি চিরকাল মনে রাখব এবং তা শোধ করবই।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তাঁকে কোনও একটি আসন ছাড়তে হলেও তিনি সবসময় নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকবেন। তাঁর কথায়, “দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মাথা পেতে নেব, কিন্তু ভবানীপুর হোক বা নন্দীগ্রাম – আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি।”
সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামের মাটি থেকে একদিকে যেমন তিনি উন্নয়নের(Suvendu Adhikari) জয়গান গাইলেন, তেমনই অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রশাসনিক পরিপক্কতার পরিচয় দিলেন। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন সেই উত্তর এখনও মেলেনি ঠিকই, তবে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন, রাজ্যের চালকের আসনে থেকে বাংলাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এখন তাঁর একমাত্র অঙ্গীকার।

