(Taratala Incident) তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর, আজ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে কলকাতার নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ইমারতগুলির কাজ আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রেখে বিশেষ অডিটের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি গোডাউন ও কোল্ড স্টোরেজ ভবন আচমকা ভেঙে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। (Taratala Incident) প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন বিপদমুক্ত, ৪ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক এবং একজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১-এ। ইতিমধ্যেই পাঁচজনের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখনও উদ্ধারকার্য চলছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, (Taratala Incident) ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মোট ৫ জনকে। ধৃতরা হলেন ‘অয়ন ট্রেডার্স’-এর সুপারভাইজার সৈয়দ গুলজার হোসেন, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, জমির লিজগ্রহীতা শম্ভুনাথ বেহেরা, লেবার সাপ্লায়ার তথা ঠিকাদার দিবাকর ভাণ্ডারী এবং কলকাতা পুরসভার প্ল্যান স্যাংশনের মধ্যস্থতাকারী আব্দুল হামিদ। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
এই দুর্ঘটনায় বিভিন্ন জেলার একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণা চৌধুরীর মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তাঁর পরিজনেরা। একইভাবে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চর শম্ভুনগর চৌধুরীপাড়ার দুই নির্মাণ শ্রমিক চন্দ্রমা চৌধুরী ও রাহুল চৌধুরীর মৃত্যুতেও শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, উদ্ধারকাজে কংক্রিটের বিশাল ঢালাই ক্রেন দিয়ে সরানো হলে আরও ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। তাই সেনা ও NDRF-এর বিশেষ ড্রিল মেশিন ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, সেনা, NDRF, পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, দমকল এবং সিভিল ডিফেন্স—এই ছয়টি সংস্থা একযোগে সমন্বয় রেখে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। মুখ্যসচিব, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, (Taratala Incident) দুর্ঘটনায় মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট নির্মাণের বিল্ডিং প্ল্যানে যাঁদের ভূমিকা ছিল, কোনও ইঞ্জিনিয়ার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ছাড়া হবে না। সকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।
(Taratala Incident) এই ঘটনার জেরে কলকাতা পুরসভার অধীন সমস্ত নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনের কাজ আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরসভা, পূর্ত দফতর, দমকল, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, কেএমডিএ-সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করা হবে। প্রতিটি নির্মাণের নকশা, অনুমোদন এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার পরই আগামী ১ অগস্ট থেকে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন :- ঝেঁপে বৃষ্টির সঙ্গে বাজ কলকাতায়— হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা ও হুগলিতে লাল সতর্কতা

