তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে ক্ষোভ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এবার সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দলের বর্ষীয়ান নেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ রত্না দে নাগ। তাঁর পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও কোথাও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তৃণমূলের অন্দরের একাংশের দাবি, পোস্টের নিশানা ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। (Ratna Dey Target Abhishek Banerjee)
সামাজিকমাধ্যমে রত্না দে নাগ লেখেন, “পুত্র স্নেহে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র কৌরব বংশের ধ্বংসের একমাত্র কারণ।” এই একটি লাইন ঘিরেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মহাভারতের উদাহরণ টেনে তিনি আসলে দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। (Ratna Dey Target Abhishek Banerjee)
পেশায় চিকিৎসক রত্না দে নাগ দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। হুগলি লোকসভা কেন্দ্র থেকে একাধিকবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পরে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পাণ্ডুয়া কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। তবে এবারের নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থী করেনি তৃণমূল নেতৃত্ব। তারপর থেকেই দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
ভোটে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কৌশল, আইপ্যাকের ভূমিকা এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিক্ষুব্ধ নেতাদের একাংশের অভিযোগ, দলের পুরনো সংগঠন কাঠামো উপেক্ষা করে ‘ম্যানেজমেন্ট নির্ভর’ রাজনীতি করাতেই এই ফল হয়েছে। অনেকের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকলে এমন ফল হতো না। (Ratna Dey Target Abhishek Banerjee)
রত্না দে নাগের পোস্ট সামনে আসতেই জেলা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। হুগলি জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “সোশ্যাল মিডিয়ায় করা রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।”
West Bengal CM: রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

