Site icon Hindustan News Point

নজরুল আলি মণ্ডলকে ওয়ার্নিং, নরেন্দ্রপুর থানায় ডেপুটেশন বিধায়ক দেবাশিস ধরের

Debasish Dhar

তোলাবাজি, মারধর, লুটপাট, জমি দখল থেকে শুরু করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের মতো অভিযোগ রয়েছে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল নজরুল আলি মণ্ডলের বিরুদ্ধে। রবিবার এরই প্রতিবাদে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধরের (Debasish Dhar) নেতৃত্বে নরেন্দ্রপুর থানায় ডেপুটেশন জমা দেন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। নজরুল মণ্ডলের গ্রেফতারি চেয়ে থানা চত্বরে শ্লোগান তোলেন বিজেপি কর্মীরা।

তৃণমূলের আমলে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভায় প্রভাবশালীদের তালিকায় নজরুল আলি মণ্ডল ছিলেন অন্যতম। তিনি পুরসভার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদের দায়িত্বেও ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে নানা রকম দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বেড়েই চলেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভয়ে অনেকেই সেই সময়ে মুখ খুলতে পারতেন না। মুখ খুললেই নজরুল আলি মণ্ডল তাঁর বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখাত। রাজ্যে পালাবদলের পর ফের নজরুল মণ্ডলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হলেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

সূত্রের খবর, রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানায় সোনারপুর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধরের নেতৃত্বে ডেপুটেশন দিতে যান বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে শাসকদল পরিবর্তন হওয়ার পরও নানাভাবে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল নজরুল আলি মণ্ডল।

সোনারপুর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধরের বক্তব্য, “সরকারে আসার সময়ে আমাদের বেশকিছু সংকল্প পত্র ছিল, তার মধ্যে ছিল এই এলাকার দুর্নীতি, নজরুল আলি মণ্ডল ও তাঁর বাহিনী বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। পুরসভা থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত এলাকায় জমি মাফিয়া ও বালি মাফিয়া যে তোলাবাজি চালাচ্ছিল সেটা আমরা খুব তাড়াতাড়ি সমাপ্ত করব। কিন্তু নরেন্দ্রপুর থানার বেশকিছু আধিকারিক আগে এদের হয়েই কাজ করত। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়ে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে কাজটা হয়নি। বেশকিছু দুর্নীতির ফাইল যার মধ্যে সরকারি ত্রিপল থেকে শুরু করে তোলাবাজির টাকা, তাঁদের লোকেশন সমস্তটাই দিয়েছি। পঞ্চায়েতের প্রধান, পঞ্চায়েতের সদস্য, কাউন্সিলর কারা কারা এদের সঙ্গে যুক্ত, সেইসব তথ্য আমরা দিয়েছি। এখনও অনেক পুলিশ আধিকারির এদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ দেওয়ার পরও এরা এখনও একাজ করে চলেছে। আমরা কিছুদিন আগে পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে বসেছি, তাঁদের কেউ বিভিন্ন তথ্য দিয়েছি। আশা করছি আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে এই এলাকার সন্ত্রাসের যে মাথা সে গ্রেফতার হবে।”

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিধায়ক বলেন, “মাঝে নারী নির্যাতনের একটি ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে তদন্তকারী অফিসার সঠিকভাবে কাজ করেননি। যে অপরাধী তার বয়ান রেকর্ড করেননি তিনি। এই গাফিলতি কী কারণে হচ্ছে, সেগুলো আমাদের জানতে হবে। আমাদের স্বচ্ছ প্রশাসন চাই। মিথ্যে মামলায় যাতে কাউকে জড়ানো না হয় সেই দিকেও আমরা নজর দেব। আশা করি,পুলিশ আধিকারিকরা এরপর শুধরাবেন। তা না হলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলব। যাঁদের বিরুদ্ধে সন্দেহ আছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। আইন সকলের জন্য সমান। কাউকে ছাড়া হবে না।”


Exit mobile version