ভোটের আগে খড়গপুরে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “আজ থেকেই মাটি কামড়ে খড়গপুরে পড়ে থাকব।” প্রচারকে তিনি ‘ফর্মালিটি’ বলেই ব্যাখ্যা করে জানান, সারা বছরই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় বিশ্বাসী। সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে পুজোপাঠ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর উপস্থিতি থাকে। এদিনও তিনটি মন্দিরে যাওয়ার কথা জানান। বড় সভা-সমিতির বদলে সরাসরি মানুষের সংযোগকেই বেশি গুরুত্ব দেন বলে দাবি করেন দিলীপ। (Dilip Ghosh)
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খড়গপুরে আসতে পারেন, তবে সে সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বই। (Dilip Ghosh)
প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করে দিলীপের দাবি, “ওনার স্কোর ১-১। একবার জিতেছেন, একবার হেরেছেন। আমি দু’বার লড়ে দু’বার জিতেছি।” তাঁর কথায়, খড়গপুরে বিজেপির লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, দলের বিরুদ্ধে। ভোটের হার বাড়ানোই এ বার মূল লক্ষ্য—এক লাখ ভোটের টার্গেট নিয়েই মাঠে নামছে বিজেপি। (Dilip Ghosh)
নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ভোটের সময় দলবদল নতুন কিছু নয়। তবে তাঁর দাবি, “নন্দীগ্রামে লড়ার মতো যোগ্য প্রার্থী তৃণমূলের নেই। তাই আমাদের দল থেকেই প্রার্থী নিয়ে লড়তে হচ্ছে।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “ন্যাড়া বেলতলায় বারবার যায় না। তাই নন্দীগ্রামে আর যাবেন না।” (Dilip Ghosh)
নিয়োগ দুর্নীতি ও রেশন কেলেঙ্কারি নিয়েও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ দিলীপের। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূলে দাগী নয় এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।” ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে টিকিট না দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আগে যাকে তাকে প্রার্থী করে বলা হতো আমিই সব আসনে লড়ছি, সেই দিন চলে গেছে।” তাঁর কথায়, তৃণমূল এখন দুর্নীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং সেই পরিস্থিতিতে দল দিশেহারা। (Dilip Ghosh)
উত্তরবঙ্গে স্বপ্না বর্মনকে প্রার্থী করা নিয়ে অসন্তোষ প্রসঙ্গে দিলীপের দাবি, সেখানে বিজেপি আগেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। “উত্তরে আমরা ধারাবাহিকভাবে জিতছি। এ বার ৪০ থেকে ৪৫টি আসন পাব,” বলেন তিনি। (Dilip Ghosh)
সব মিলিয়ে খড়গপুর থেকে উত্তরবঙ্গ—রাজ্য জুড়ে বিজেপির জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “পরিবর্তন হবেই।” (Dilip Ghosh)

