দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের ফলে রাজ্যে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের শীতল হাওয়া ঢোকার পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেছে। এর প্রভাবেই আজ কলকাতায় এক বিরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর কলকাতার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে এসেছে, যা এর আগে ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি দেখা গিয়েছিল। (weather update)
শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমেছে। যদিও কলকাতার ইতিহাসের শীতলতম দিনটি ছিল ১৮৯৯ সালের ২০ জানুয়ারি (৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস), তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর নিরিখে চলতি বছরের এই জানুয়ারি মাস শীতের নিরিখে অত্যন্ত শক্তিশালী। (weather update)
দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের দাপট সবচেয়ে বেশি। বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় আজ ও আগামিকাল শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার পাশাপাশি হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলায় ‘শীতল দিন’ বা কোল্ড ডে পরিস্থিতি বজায় থাকবে। কুয়াশার দাপটও দক্ষিণবঙ্গে চরমে পৌঁছতে পারে; বিশেষ করে বীরভূম, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় যান চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। (weather update)
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে আবহাওয়া আরও বেশি প্রতিকূল। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার—এই তিন জেলায় আজ থেকে আগামী তিন দিন হাড়কাঁপানো পরিস্থিতি চলবে। হিমালয় সংলগ্ন দার্জিলিং থেকে শুরু করে মালদা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই আগামী ৪৮ ঘণ্টা ঘন কুয়াশার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। উত্তর দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিঙে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকবে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সাত দিন রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই এবং শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। মূলত বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি শীতল হাওয়ার গতি বাড়িয়ে দেওয়ায় এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। (weather update)

