বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগোচ্ছে, ততই যেন জমে উঠছে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রের ভোটের লড়াই। এ বার এই কেন্দ্রে মুখোমুখি তিন অভিনেত্রী। তৃণমূল প্রার্থী লাভলি মৈত্র, বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং জনসংগ্রাম মঞ্চের মুখ রাজন্যা হালদার। ফলে এই কেন্দ্র এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম হটস্পট।
তৃণমূলের হয়ে গত বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বর্তমান বিধায়ক অভিনেত্রী অরুন্ধতী মৈত্র ওরফে লাভলি মৈত্র এবারও সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী। টিকিট পেয়েই বিধানসভাকে মডেল বিধানসভা করার কথা বলেছেন লাভলি। সারা বছরই মানুষের পাশে থেকেছেন এমনটাই দবি। সোনারপুরের অসমাপ্ত কাজ শেষ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জোর কদমে ভোট প্রচার। West Bengal Assembly Election
বৃহস্পতিবারই সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র জন্য রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। অভিনয় জগতে পরিচিতি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে হাতিয়ার করে এই আসনে শক্ত লড়াই দিতে চাইছেন। সোনারপুর দক্ষিণ এবার তার জন্য নতুন কেন্দ্র তবে তাতে ‘কুছ পরোয়া নেহি’ মেজাজ রূপার।
West Bengal Election: প্রার্থী অপছন্দের ক্ষোভ অব্যাহত, একাধিক জেলায় কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভ
তবে এই দুই হেভিওয়েটের মাঝেই চমক হয়ে উঠেছেন রাজন্যা হালদার। একসময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেত্রী ছিলেন। শহীদ দিবসের মঞ্চে বক্তব্য রাখার পর থেকই লাইমলাইটে আসেন। তবে এবার আর কোনও দলীয় পতাকা ধরেননি । প্রচারের শুরুতেই তিনি জানিয়েছেন, জিতলে প্রথম কাজ হবে সোনারপুরের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা। তাঁর কথায়, “সব সময় শুধু ঝান্ডা ধরলে হয় না, কখনও কখনও ডান্ডাও ধরতে হয়”, তবে সেই ‘ডান্ডা’ মানে মারপিট নয়, প্রতিবাদ।
শুক্রবার সকালেই বিপত্তারিণী চণ্ডীবাড়িতে পুজো দিয়ে নিজের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন রাজন্যা। উল্লেখ্য এই মন্দিরেই পুজো দিয়ে ভোট প্রচার শুরু করেছিলেন লাভলিও। পাশাপাশি নেতাজির পৈত্রিক ভিটে ঘুরে শ্রদ্ধা জানান এবং সুভাষগ্রামের বিপ্লবীদের বাড়ি ও সলিল চৌধুরীর বাড়িতেও যান তিনি। West Bengal Assembly Election
সব মিলিয়ে সোনারপুর দক্ষিণে এ বার লড়াই শুধু দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তিন অভিনেত্রীর ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সংগঠন বনাম পরিচিতি বনাম নতুন মুখ- এই তিন ফ্যাক্টরের লড়াইয়ে ফল কোন দিকে যাবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে একথা নিশ্চিত, এই কেন্দ্রের দিকে নজর থাকছে সবার।

