আবহাওয়ার তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও ক্রমেই চড়ছে। বেলা বাড়তেই গরম যেমন দিন দিন বাড়ছে, তেমনই ভোটার দিন যত এগিয়ে আসছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। আজও তেমন ছবিই ধরা পড়ল একাধিক জায়গায়। শাসক দল এবং বিরোধীদের সংঘাতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। (West Bengal Assembly Election)
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা বিধানসভা এলাকায় ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বনগাঁ থানার অন্তর্গত আরামডাঙ্গা কালীমন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর। সেই সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর গাড়ির পিছনে আচমকাই একটি বাইক এসে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে যায় এবং আহত হন বাইক চালক। ঘটনায় কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রার্থী নিজেও। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বনগাঁ থানার পুলিশ। ইতিমধ্যে ওই বাইক আরোহীকে আটক করা হয়েছে এবং বাইকটিও উদ্ধার করা হয়েছে।এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে, ওই বাইকের চালকের গায়ে ছিল তৃণমূলের গেঞ্জি, অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর।
সোমা ঠাকুরের দাবি, তৃণমূল পরিকল্পনা করেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমার গাড়ির পিছনে জোরে ধাক্কা মারা হয়েছে। অল্পের জন্য ড্রাইভার প্রাণে বেঁচে গিয়েছে।” যদিও বাইক চালকের দাবি, তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই কাজ করেননি। তিনি জানান, তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এবং ইটভাটায় কাজ করেন। তাঁর কথায়, “কেউ ইচ্ছে করে গাড়িতে ধাক্কা মারে না। আমি ইচ্ছে করে কিছু করিনি। এখন সবকিছুতেই রাজনৈতিক রং লাগানো হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপির হয়ে জিতেছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের ফলও তৃণমূলের পক্ষে গিয়েছিল। তাই এবার উত্তর ২৪ পরগনার এই কেন্দ্রের দিকে নজর সবার। (West Bengal Assembly Election)
এদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের ওসমানচকেও ছড়িয়েছে উত্তেজনা। সেখানে আইএসএফ কর্মীরা তাদের দলীয় পতাকা লাগাতে গেলে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। কথা কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী সাবে মিরাজ খান। আইএসএফের অভিযোগ, তৃণমূল তাদের কাজে বাধা দিয়েছে। তবে তৃণমূল সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, “আমাদের লাগানো পতাকার উপর ওরা নিজেদের পতাকা লাগাতে যায়, আর অযথা উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করে।”
অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের বারাবনি বিধানসভা এলাকাতেও দেখা গেল উত্তেজনার ছবি। সেখানে আবার তৃণমূল প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়ের পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিরোধীদের বিরুদ্ধে। তৃণমূল নেতা মাধব তিওয়ারির দাবি, রাতের অন্ধকারে নুনী এলাকায় বিজেপির দুষ্কৃতীরাই এই কাজ করেছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে রাজ্যের নানা প্রান্তের এই অশান্তির ঘটনা থেকেই আসন্ন নির্বাচন ঠিক কতটা শান্তিপূর্ণ হবে তা বোঝাই যাচ্ছে। এখন দেখার নির্বাচন কমিশনের তৎপরতায় আগামীতে পরিস্থিতি ঠিক কেমন থাকে। (West Bengal Assembly Election)

