রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকারের এই প্রথম বাজেট (West Bengal Budget 2026)। অন্যান্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি এই বাজেটে জুড়ল ক্রীড়াক্ষেত্রও। ক্রীড়া সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাজ্যে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্প চালু হবে। এবার উত্তরবঙ্গও পাচ্ছে নতুন স্টেডিয়াম। সমস্ত বিধানসভা এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি করে মিনি স্টেডিয়াম স্থাপন করা হবে।
ক্রীড়াক্ষেত্রে বিপুল অর্থ বরাদ্দ হয়েছে বাজেটে(West Bengal Budget 2026)। বাজেট পেশের সময়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত বলেন, “এই আর্থিক বছরে ১০০টি স্টেডিয়ামের কাজ হাতে নেওয়া হবে। আমাদের সরকার বিভিন্ন জেলায় বর্তমান স্টেডিয়ামগুলির সংস্কার করবে। কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামের ও সংস্কার হবে। এই সংস্কারের লক্ষ্যে এই আর্থিক বছরে ১০০ কোটি টাকা বরদ্দের প্রস্তাব করা হলো।”
এছাড়াও তৈরি হবে স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি। উত্তরবঙ্গে হবে আন্তর্জাতিক মানের ইন্ডোর ও আউটডোর স্টেডিয়াম। থাকবে থ্রিডি অ্যানিমেনশন কোর্স। উত্তরবঙ্গে হবে আন্তর্জাতিক মানের ইন্ডোর ও আউটডোর স্টেডিয়াম। বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা।
পাশাপাশি যে সকল স্পোর্টস ক্লাব জাতীয় স্তরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় (ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহামেডান, ডায়মন্ড হারবার এফসি) অংশগ্রহণ করবে তাদের ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। যুবদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য সরকার মেডেল বিজয়ীদের পুরষ্কৃত করতে প্রতিযোগিতার প্রকৃতি অনুযায়ী তাঁদের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা থেকে শুরু করে ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ পোস্ট গ্রহণের প্রস্তাব দেবে। এবিষয়ে পলিসি তৈরি করছে রাজ্য। জতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিজয়ীদের পুরষ্কারের অর্থ দেওয়ার উদ্দেশ্য ৫০ কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করা হবে।
এছাড়াও রাজ্যে আরও নতুন বিমানবন্দর তৈরি কথা ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। যেমন, পুরুলিয়া, বালুরঘাট এবং মালদাতে বিমানবন্দর তৈরি করা হবে। কোচবিহারে বর্তমান এয়ারপোর্টটিকে সম্প্রসারিত করা হবে। এর জন্য বর্তমান অর্থবর্ষে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কৌশলগত পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার হাসিমারা এয়ারফোর্স স্টেশনকে ২৫ একর ও কলাইকুণ্ডা এয়ারফোর্স স্টেশনকে ৩৭ একর জমি দেবে।
কলকাতা বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সমাধানের জন্য কলকাতায় একটি দ্বিতীয় বিমানবন্দরের প্রয়োজন। সরকার কল্যাণীর কাছে নতুন একটি ‘গ্রিনফিল্ড’ বিমানবন্দর স্থাপনের জন্য ১,০০০ থেকে ১,৫০০ একর জমি চিহ্নিত করবে।
পাশাপাশি, যাতায়াতের সুবিধার্থে দুর্গাপুর-আসানসোল ও শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি মধ্যে মেট্রো সংযোগ চালু করতে চায় রাজ্য। এই এই প্রকল্পের জন্য,Techno-Economic স্টাডি করা হবে।
বাজেটে শিক্ষাক্ষেত্রেও বিনিয়োগ নিয়ে অর্থমন্ত্রী এদিন বলেন, সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং সংস্কৃত ভাষা প্রসারের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার এই রাজ্যে নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমি দেবে। প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগণা, মালদা, ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব বর্ধমানে চারটি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়াতে দুটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।
আগামী ৫ বছরে ভারত সরকারের ১,০০০ কোটি টাকা সহায়তায় ও রাজ্যের তরফে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি Institute of Excellence-এ উন্নীত করা হবে।
ITI-গুলির আধুনিকীকরণের জন্য, PM-SETU (PM Skilling & Employability Transformation through Upgraded ITIs) প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হবে। এর উদ্দেশ হলো পরিকাঠামো, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষক এবং উন্নয়নের অন্যান্য খরচ নির্বাহ করা এবং একই সঙ্গে শিল্পভিত্তিক শিক্ষার উন্নয়ন সম্পর্কিত কোর্সসমূহ ও প্লেসমেন্ট এবং ভর্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া। এই খাতে ৫৭০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।
IIT, JEE, NEET, CAT, CA এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি জেলায় দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র (Skill Development Centre) স্থাপন করা হবে।

