মহাত্মা গান্ধী ‘দেশদ্রোহী’। ধূপগুড়িতে ভোটের মুখে বিজেপি প্রার্থীর (West Bengal Election 2026) মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নরেশ রায় প্রকাশ্যে মহাত্মা গান্ধীকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে কটাক্ষ করায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর তরজা।
শনিবার বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে সমাজ মাধ্যমে এমনই একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে রাস্তার মোড় থেকে শুরু করে চায়ের দোকান সব জায়গাতেই এখন একটাই আলোচনা, জাতীর জনক মহাত্মা গান্ধীকে এভাবে দেশদ্রোহী বলা কতটা গ্রহণযোগ্য?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরমে উঠছে রাজনৈতিক উত্তাপ (West Bengal Election 2026)। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলা হয়েছে। এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং যিনি এমন মন্তব্য করেন, তাকে ভোট দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। পাশাপাশি নরেশ রায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তৃণমূল।
এদিকে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এই মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত একজন ব্যক্তিত্বকে এভাবে অপমান করা উচিত নয়।
অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীর এহেন মন্তব্য, দলের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিতর্ক বাড়তে থাকায় দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
সব মিলিয়ে, ভোটের ঠিক আগে এই মন্তব্য ঘিরে ধূপগুড়ি জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিতর্ক আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক নরেশ কুমার সিং বলেন, “বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। যিনি নিজেকে দেশের একজন সৈনিক বলে দাবি করেন, তাঁর মুখে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে ‘দেশদ্রোহী’ বলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মহাত্মা গান্ধী ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান নেতা, তাঁর অবদান গোটা দেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মন্তব্য শুধু ইতিহাস বিকৃত করার সামিল নয়, বরং দেশবাসীর আবেগেও আঘাত করে। ভারতবাসী সচেতন, তারা ইতিহাস জানেন এবং এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্যের উপযুক্ত জবাব ব্যালটে দেবেন। “
ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের জাতীয় কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী হরিশচন্দ্র রায় বলেন, “বিজেপি প্রার্থী নরেশ রায়ের মন্তব্য অত্যন্ত কুরুচিকর ও নিন্দনীয়। তিনি দাবি করেন, নরেশ রায় নিজেকে ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক বলে পরিচয় দেন, অথচ তিনি জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক চন্দন দত্ত বলেন, “আমি নরেশ বাবুর এই ধরনের কোন বক্তব্য শুনিনি, কোন প্রতিক্রিয়া দেব না” যদিও বিজেপি প্রার্থী নরেশ চন্দ্র রায় এর দাবি তার বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে।

