বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটের দিন ভবানীপুরে একেবারে ভিন্ন ছবি দেখা গেল। সাধারণত ভোটের দিনে সকালবেলা বাইরে খুব একটা দেখা যায় না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু এদিন সেই নিয়ম ভেঙে সকাল সকালই তিনি ভবানীপুরের একাধিক বুথে ঘুরে বেড়ালেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় ব্যবধানে হেরে যাবেন। তাঁর মন্তব্য, “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না… কোনও লাভ হবে না।” পাশাপাশি তিনি বলেন, হিন্দু ভোটাররা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোট দিতে এসেছেন। (West Bengal Election)
এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। এখানে মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে, ফলে সকাল থেকেই সবার নজর এই কেন্দ্রের দিকে।
ভোটের দিনে সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেতলা-সহ বিভিন্ন বুথে যান এবং ভোটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেও কথা বলেন। চক্রবেরিয়ায় বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতা বলেন, “এভাবে ভোট হয়? ভোট মানুষ দেবে, পুলিশ বা সিকিউরিটি নয়।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এলাকায় পোস্টার খুলে দেওয়া হয়েছে এবং বাইরের লোক এনে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ ভোট হোক। কিন্তু কিছু অবজারভার আনা হয়েছে যারা বাইরে থেকে এসেছেন। তাঁরা বাংলাকে বোঝেন না। থানায় গিয়ে চাপ দিচ্ছেন তাঁরা। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তৃণমূলকে টার্গেট করতে। ওঁরা বেছে বেছে আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করছেন। বিজেপির কথায় চলছে নির্বাচন কমিশন। আমার বুথের এজেন্টকে গ্রেফতার করেছিল, ফিরহাদ হাকিম গিয়ে ছাড়িয়ে এনেছেন। তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুর বাড়িতে রাত দেড়টার সময় গিয়ে থ্রেট দিয়ে এসেছে।” (West Bengal Election)
West Bengal Assembly Election: সকাল থেকে চরকিপাক মমতার, কেমন শুরু হলো দ্বিতীয় দফার নির্বাচন?
অন্যদিকে হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে দিন শুরু শুভেন্দু অধিকারীর। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, আগে এই এলাকাগুলোতে রাস্তায় কেউ ঢুকতে পারত না, তৃণমূল দখল করে রাখত। এখন সবাই ভোট দিতে পারছে। এরপর শিবমন্দিরেও যান তিনি।
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে ভোটের দিন সকাল থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং ৪ মে এই কেন্দ্রের দিকেই চোখ থাকবে রাজ্যের মানুষের। (West Bengal Election)

