পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পরে এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (West Bengal Election Result 2026) নিযুক্ত সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের নিজেদের দফতরে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত বিভাগীয় সচিবদের লোকভবন থেকে এমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল। জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিভাগের সচিবদের নিজ নিজ দফতরে মৌখিকভাবে এই নির্দেশের কথা জানানো হয়েছে। এই নির্দেশিকায় এইটাও বলা হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত নতুন সরকার গঠন হচ্ছে ততক্ষণ এই নির্দেশিকা জারি থাকবে।
বিভিন্ন বিভাগে উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং সরকারি কোয়ার্টারও খালি করে দিয়েছেন।
এছাড়াও, মঙ্গলবার মুখ্যসচিব সমস্ত বিভাগকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল যাতে যথাযথভাবে সুরক্ষিত থাকে এবং কোনও অবস্থাতেই সেগুলো যেন বিভাগীয় চত্বরের বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আর্থিক উপদেষ্টাদেরও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে এবং ফাইলগুলির একটি তালিকা করতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পরে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (West Bengal Election Result 2026) মুখ্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দেন দুই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। এমনটাই নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনেই একদা রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে ছিলেন। অবসরের পরে ওই দুই আমলাকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হিসাবে বিশেষ পদ দেওয়া হয়েছিল। অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আর এক প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থ। যদিও নবান্ন থেকে এ সংক্রান্ত কোনও খবর জানা যায়নি।
রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সাধারণভাবে শাসকের আস্থাভাজন আমলাদেরই অবসরের পরে এমন বিশেষ দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছার উপরেই তাঁদের কার্যকালের মেয়াদ নির্ভরশীল। আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনের রাজ্যের মুখ্যসচিবের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতার আস্থাভাজন হিসাবেও পরিচিত ছিলেন।

