Site icon Hindustan News Point

West Bengal Election: মোটামুটি শান্তিতেই মিটেছে প্রথমদফার ভোট, তবে দ্বিতীয় দফার আগে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির ছবি

West Bengal Election_1

এবারে বঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফা নির্বাচনে কমিশন সেই কাজ করতে অনেকাংশেই সফলও হয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন মহলে। কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিতেই শেষ হয়েছে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ। তবে দ্বিতীয় দফার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক উঠে আসছে অশান্তির খবর। কোথাও বিস্ফোরণের আতঙ্ক, কোথাও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আবার কোথাও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ, সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ।

চাঞ্চল্যকর ঘটনা নোয়াপাড়ায়। শনিবার বেলার দিকে হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া থানা চত্বর। থানার পিছনে বসবাসকারী স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার ভিতরের দিক থেকেই বোমা বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। বাসিন্দাদের দাবি, বিস্ফোরণের পর বোমার স্প্লিন্টার ছিটকে এসে পড়ে তাদের বাড়ির ছাদ ও উঠনে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। হঠাৎ এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিষয়টি থানায় জানানো হলেও তৎক্ষণাৎ কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঘটনার পিছনে কাদের হাত রয়েছে সে বিষয়ে যদিও এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। (West Bengal Election)

অন্যদিকে নদিয়ার চাপড়ায় উত্তেজনা। শুক্রবার রাতে আইএসএফ এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বচসাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে কথাকাটাকাটি দিয়ে শুরু হলেও দ্রুত তা হাতাহাতিতে গড়ায়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় মোট চারজন জখম হন। তাঁদের মধ্যে ২ জন প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাড়া পেলেও বাকি ২ জন শক্তিনগর হাসপাতালে। বচসার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় টহল বাড়ানো হয়। পরে দুই পক্ষই চাপড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ তদন্ত শুরু করে দুজনকে আটকও করে। চাপড়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

এবারের প্রথমদফা বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ছিল নন্দীগ্রাম। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের সেই নন্দীগ্রামেও ভোট-পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ সামনে এলো। অভিযোগ নন্দীগ্রাম বিধানসভার ভেকুটিয়া অঞ্চলের ৩৬ নম্বর বুথের সামনে একটি দোকানে বসেছিলেন তৃণমূল কর্মী ঝন্টু মাইতি। সেই সময় বিজেপির তিন কর্মী আচমকা এসে তাঁকে মারধর করে। ঝন্টুর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন বাইরে কাজ করেন এবং এবার ভোট দিতে বাড়ি এসেছেন, কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন না। কেন তাঁকে মারধর করা হল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। যদিও বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, ঝন্টু তাদের কর্মী-সামর্থকদের নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং মহিলাদের উদ্দেশে কটূক্তিও করেন। আহত ঝন্টু মাইতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। (West Bengal Election)

Fire Incident: পুড়ে ছাই আক্রা সন্তোষপুরের বহু ঝুপড়ি, নেপথ্যে কি শর্ট সার্কিট না অন্যকিছু?

এই বিষয়ে বিজেপি নেতা ধনঞ্জয় ঘড়া বলেন, নন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু ভোটের পর এই ধরনের অশান্তি কাম্য নয়। তাঁর দাবি, ভোটের আগে তৃণমূলের তরফে ভয় দেখানো হয়েছিল, তারই প্রতিফলন এই ঘটনা। অন্যদিকে ঝন্টু সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে গালিগালাজ বা হুমকি দেননি।

সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই দ্বিতীয় দফার আগে রাজ্যের একাধিক জায়গায় অশান্তির যে চিত্র সামনে আসছে, তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নির্বাচনী আবহে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই এখন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। (West Bengal Election)


Exit mobile version