ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের করা মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টও আবেদন করেছিল তৃণমূল (West Bengal Election)। হাইকোর্টে সেই মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল। শনিবার সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিষয়ে আর কোনও অতিরিক্ত নির্দেশের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে দেওয়া ১৩ এপ্রিলের সার্কুলার মেনে চলার আশ্বাস নথিভুক্ত করা হয়েছে।
বিচারপতি পি এস নরসিমহা এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আগামী ৪ মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা হওয়ার কথা। তার কেন্দ্রীয় কর্মীদের গণনায় যুক্ত করার কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। শুনানিতে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ও মীনাক্ষী অরোরা। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ১৩ এপ্রিলের নির্দেশিকা সম্পর্কে দলটি অনেক পরে জানতে পারে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগের পিছনে কমিশনের আশঙ্কার ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
স্ট্রংরুমে মমতা, পাল্টা শুভেন্দুর — ‘নিয়ম বহির্ভূত কিছু করতে পারেননি’: West Bengal Election: ভোটগণনায় কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগ বহাল, তৃণমূলের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টেঅন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী ডি এস নাইডু আদালতে জানান, পুরো গণনা প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার, যিনি রাজ্য সরকারের কর্মী। তাঁর কথায়, কমিশনের নির্দেশিকা “অক্ষরে অক্ষরে” কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, গণনায় এক জন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং এক জন রাজ্য সরকারি কর্মীকে একসঙ্গে দায়িত্ব দেওয়া হবে। (West Bengal Election)
শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, কোনও গণনাকর্মীকে “কেন্দ্রের প্রতিনিধি” বলা হচ্ছে কি না, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার উপরই বিষয়টি নির্ভর করছে। আদালত আরও জানায়, ভোটগণনার সময় রাজনৈতিক দলগুলির নিজস্ব কাউন্টিং এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও পুরো ব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক হিসেবে মাইক্রো অবজারভার থাকেন। (West Bengal Election)
সব মিলিয়ে, ভোটগণনার আগে তৃণমূলের আপত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট কোনও নতুন নির্দেশ না দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতেই সিলমোহর পড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

