এবারের ২০২৬ নির্বাচনে রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, বরং তীব্র গরমই যেন বড় আতঙ্ক হয়ে উঠছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গের চার জেলায় মৃত্যু হয়েছে চার ভোটারের। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, মালদহ ও বীরভূম থেকে এই মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের অনুমান, অতিরিক্ত গরম, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। (West Bengal Phase 1 election)
পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের বামনবাড় জুনিয়র হাইস্কুলের ২৩৪ নম্বর বুথে ভোট দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৫৮ বছরের নৃপেন্দ্র দাস। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর আচমকাই তিনি জ্ঞান হারান। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরেও একই ছবি পওয়া যায়। সীমাগেরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইসরাতন বিবি ভোট দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর স্বামী শেখ নবাবজান আলির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। সেই নিয়ে মানসিক চাপেও ছিলেন তিনি। (West Bengal Phase 1 election)
মালদহের মালতিপুরে প্রাণ হারিয়েছেন প্রমিলা বাগদি। অন্যদিকে বীরভূমের সিউড়িতে মৃত্যু হয়েছে অসীম রায়ের। চারটি ক্ষেত্রেই গরমজনিত শারীরিক সমস্যার দিকেই প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত পওয়া যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তীব্র রোদের দাপট আছে। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানে ভোটগ্রহণ হয়। সকাল ১১টা পর্যন্ত রেকর্ড হারে ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে বুথের বাইরে দীর্ঘ লাইন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। (West Bengal Phase 1 election)
উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। Accuweather-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোটে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কাও রয়েছে।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে তাই প্রশ্ন উঠছে ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল, ছাউনি, চিকিৎসা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না? গণতন্ত্রের উৎসব যেন আর কারও জীবনের শেষ দিন না হয়ে ওঠে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। (West Bengal Phase 1 election)

