মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও দেরিতে বিয়ের পক্ষে ধারাবাহিক সচেতনতা প্রচার চালানো সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন অংশে বাল্যবিবাহ এখনও বিদ্যমান। ‘স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (SRS) পরিসংখ্যান প্রতিবেদন ২০২৪’ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে ১৮ বছর—যা বিয়ের আইনি বয়স—হওয়ার আগেই মেয়েদের বিয়ের হার সর্বাধিক। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের রিপোর্টে উঠে এসেছে যে বর্তমানে সারা দেশের অধিকাংশ মহিলা ২১ বছর বয়সের পরেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবুও পূর্ব ও মধ্য ভারতের বেশ কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে বাল্যবিবাহের ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। (Child Marriage West Bengal)
২০২৪ সালে বিবাহিত মোট মেয়েদের মধ্যে ২.১ শতাংশের বয়স ছিল ১৮ বছরের কম এবং ২৪.৫ শতাংশের বয়স ছিল ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বা ৭৩.৫ শতাংশ মেয়ে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সে বিয়ে করেছেন। তবে সামগ্রিকভাবে, ২৫ শতাংশেরও বেশি মেয়ে এখনও ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিবাহিত হয়ে পড়েন। গ্রামীণ অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রেও বাল্যবিবাহের হারে পশ্চিমবঙ্গ শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে এই হার ৫.৯ শতাংশ। এর পরেই ৫.৮ শতাংশ হার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঝাড়খণ্ড। রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরাঞ্চলগুলোতেও বাল্যবিবাহের হারে পশ্চিমবঙ্গ আবারও শীর্ষে রয়েছে। যেখানে এই হার ৭.৬ শতাংশ—যা জাতীয় গড় ১.১ শতাংশের তুলনায় অনেকটাই বেশি। (Child Marriage West Bengal)
এই সমীক্ষায় দিল্লিতে বাল্যবিবাহের সংখ্যা শূন্য, অন্যদিকে কেরালায় এই হার অন্যতম সর্বনিম্ন—০.০৪ শতাংশ। হরিয়ানা এবং হিমাচলেও বাল্যবিবাহের হার অত্যন্ত কম বলে উঠে এসেছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতে মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স বর্তমানে ২৩.১ বছর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাল্যবিবাহ বা অল্প বয়সে বিয়ের ফলে প্রায়শই মেয়েদের পড়াশোনা অকালে বন্ধ হয়ে যায়, অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও হ্রাস পায়। (Child Marriage West Bengal)
নোংরা করলেই জরিমানা, রাজ্যে চালু হচ্ছে ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপ, ঘোষণা অগ্নিমিত্রা পালের

