আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা শহর। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মুখ খুলল জনপ্রিয় ফুড চেন Wow! Momo। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ভোররাতে প্রায় ৩টা নাগাদ আনন্দপুরে তাদের গুদামে আগুন লাগে। তবে সংস্থার দাবি, আগুনের সূত্রপাত তাদের গুদাম থেকে নয়, পাশের একটি ওয়্যারহাউস থেকে ছড়িয়ে পড়ে এই বিপর্যয়। অসমর্থিত সূত্রে খবর, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। নিখোঁজ বহু। সরকার যদিও ৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
Wow! Momo-র অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পাশের গুদামে অনুমতি ছাড়া রান্নার কাজ চলছিল। সেখান থেকেই আগুন লাগে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে Wow! Momo-র একটি গুদামে, যা সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সংস্থার দুই কর্মী এবং এক জন এনআইএস (NIS) চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তারক্ষী। এই ঘটনায় সংস্থার পক্ষ থেকে গভীর শোক ও বেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।
‘মৃত্যুপুরী আনন্দপুর’ – কীভাবে বন্ধ হলো গুদামের গেট? প্রকাশ্যে রিপোর্ট
বিবৃতিতে সংস্থা লিখেছে, “এই অগ্নিকাণ্ডে আমরা শুধু আমাদের সহকর্মীদেরই হারাইনি, হারিয়েছি আমাদের আত্মার একাংশকে। এই ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।” নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে Wow! Momo। সংস্থার কর্তৃপক্ষ তিনটি পরিবারের সঙ্গেই ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করেছেন এবং আজীবন পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
কী কী সাহায্য করবে সংস্থা?
- প্রতিটি পরিবারকে এককালীন ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
- আজীবন মাসিক বেতন দেওয়া হবে
- পরিবারের সন্তানের সম্পূর্ণ শিক্ষার দায়িত্ব
Wow! Momo জানিয়েছে, সরকারি ও আইনি যে সমস্ত সুবিধা পরিবারগুলি পাওয়ার অধিকারী, তার বাইরেও এই সহায়তা দেওয়া হবে। সংস্থার বক্তব্য, “আমাদের কর্মীরাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। মানুষ ছাড়া আমরা কিছুই নই।”
এছাড়াও, প্রশাসন ও সরকারি তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থা। আনন্দপুরের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে এবং তাঁদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছে Wow! Momo কর্তৃপক্ষ।









