Site icon Hindustan News Point

Karachi US Consulate: ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন উপদূতাবাসে হামলা, পাকিস্তানে মৃত ৯

karachi us consulate

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃ‌ত্যু খবর প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী বিক্ষোভে উত্তার হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের করাচি। খামেনেইয়ের মৃ‌ত্যুর পরই করাচিতে অবস্থিত মার্কিন উপদূতাবাসে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা (Karachi US Consulate)। হত‌্যার প্রতিবাদে শতাধিক বিক্ষোভকারী উপদূতাবাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ‌্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত নয়জনের মৃ‌ত্যু হয়েছে।

সংঘর্ষের বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। যে সমস্ত ভিডিয়ো প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, উপদূতাবাসের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তারক্ষীদের উদ্দেশে পাথর ছুঁড়ছেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের হটাতে নিরাপত্তারক্ষীরা প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পরে লাঠিচার্জও করা হয়। অভিযোগ, গুলিও ছোড়া হয়েছে। এবং তারই জেরে অন্তত ৯ জনের মৃ‌ত্যু ঘটেছে। এছাড়া আহতও হয়েছেন অনেকে।

জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা,বন্ধ হরমুজ প্রণালী, চাপে ভারত

আহতের সংখ্যা অন্তত ২০। নিহত এবং আহতের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। সংবাদসংস্থাকে পুলিশ সার্জেন ডাঃ সুমাইয়া সৈয়দ জানিয়েছেন, করাচির সিভিল হাসপাতালে কমকরে ন’টি মৃতদেহ আনা হয়েছে। শুধু করাচি নয়, পাকিস্তানের অন্য শহরগুলিতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের স্কার্দুতে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রসংঘের একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। লাহোরে মার্কিন দূতাবাসের সামনে অসংখ্য বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিল। তবে সেখানে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে, পাকিস্তানের রাজধানি ইসলামাবাদেও বিক্ষোভ হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তানের ইরানি দূতবাস। শুধু পাকিস্তান নয়, আমেরিকা বিরোধী আন্দোলন চলছে পশ্চিম এশিয়ার আরও বহু জায়গায়।

ইরানকে হুঁশিয়ারি আমেরিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

অন্যদিকে রীতিমতো সতর্ক করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি রবিবার স্পষ্টভাষায় জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েলের উপর যদি হামলা চালানো হয়, তার ফল হবে মারাত্মক। ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোশ‌্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান বলেছে, তারা কঠোর থেকে কঠোরতর আক্রমণ চালাবে। তারা এমন জোরালো প্রত‌্যাঘাত করবে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’ একথা লেখার পরই ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘তবে এই পদক্ষেপ ইরান না নিলেই ভালো করবে। কারণ, তারা যদি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা হলে আমরা এমন শক্তি ব‌্যবহার করে আঘাত করব, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’

অর্থাৎ, মার্কিন ও ইজরায়েলের সেনার যৌথ অভিযানের চব্বিশ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও আঘাত-প্রত‌্যঘাতের পালা চলছেই। ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারির পর ট্রাম্পের এই হুমকি আগুনে আরও ঘি ঢেলে দিয়েছে। এরইমধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আবার হুমকি দিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ঘাঁটিগুলির উপর আঘাত হানবে। তারা বলেছে, দ্রুতই মার্কিন এবং ইজরায়েলি ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে সবথেকে ধ্বংসাত্মক অভিযান শুরু হবে। কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। খামেইনির মৃত্যুর পর আইআরজিসি শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, ‘আমরা এক মহান নেতাকে হারিয়েছি। আমরা সকলেই শোকাহত। বিশ্বের সবথেকে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও মানবতার হত্যাকারীদের হাতে খামেইনির মৃত‌্যুর ঘটনা এটাই প্রমাণ করে, এই মহান নেতার বৈধতা এবং তাঁর আন্তরিক সেবাগুলো স্বীকৃত।’


Exit mobile version