Site icon Hindustan News Point

Ayatollah Khomeini: রাজনীতির পাশাপাশি গড়ে তুলেছিলেন আর্থিক সাম্রাজ্য, কত সম্পত্তির মালিক ছিলেন খামেনেই?

Ayatollah Khomeini

ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Khomeini)। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদেরও মৃত্যু হয়েছে। ইরান সরকার তাঁকে শহিদ ঘোষণা করে তাঁর মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কথাও জানিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিপুল সম্পদের পরিমাণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ ৩৬-৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন খামেনেই। তবে শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন সংস্থা, ফাউন্ডেশন ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ কয়েক দশক আগে থেকেই বিপুল আকার ধারণ করে। ২০১৩ সালে একটি বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক তদন্তে জানানো হয়, তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরবর্তী কয়েকটি প্রতিবেদনে এই পরিমাণ আরও বেশি, এমনকি ২০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এই পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই বিপুল সম্পদ ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা ছিল এমন প্রমাণ নেই। বরং বলা হয়, বিভিন্ন ট্রাস্ট, ধর্মীয় ফাউন্ডেশন, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক, টেলিকম সংস্থা, রিয়েল এস্টেট এবং শেয়ার বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি জটিল আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকই সরাসরি সংসদীয় তদারকির বাইরে পরিচালিত হত বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দাবি।

খামেনেই বরাবরই নিজেকে সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত নেতা হিসেবে তুলে ধরতেন। তবে তাঁর প্রভাবাধীন আর্থিক নেটওয়ার্ক ইরানের অর্থনীতির একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত বলেই বিভিন্ন মহলের মত।

সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতিতে শুধু একা খামেনেই (Ayatollah Khomeini) নয় মৃত্যু হয়েছে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও। তাঁর মেয়ে, জামাই ও নাতি বেঁচে নেই কেউ। কাজেই এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে খামেনেই এর এই বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী কে হবে? তাঁর পরে ইরানের সর্বোচ্চ শাসকের মুকুট কার মাথায় বসতে চলেছে?

সব মিলিয়ে, তাঁর মৃত্যু সংক্রান্ত জল্পনা এবং পরিবারকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর দীর্ঘদিনের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য। যার প্রকৃত পরিমাণ ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আজও আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক রহস্য হয়ে রয়েছে।


Exit mobile version