বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা থামার নাম নিচ্ছে না (Bangladesh Unrest)। ফের একবার হিন্দু পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটল। এবারে ঘটনাস্থল সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দা হিন্দু শিক্ষক বীরেন্দ্রকুমার দে-র বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। এলাকায় তিনি ‘ঝুনু স্যর’ নামেই বেশি পরিচিত। এই ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে তাঁর পরিবার ও আশপাশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্রাস করছে বাড়িটি, আর প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সদস্যরা দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। যদিও এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই, তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেই অনুমান। এখনও পর্যন্ত কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
UNENDING XENOPHOBIA THE WORLD WATCHES SILENTLY
— Rahul Shivshankar (@RShivshankar) January 16, 2026
Another targeted attack on a Hindu family in Bangladesh. The home of teacher Birendra Kumar Dey (“Jhunu Sir”) in Sylhet’s Gowainghat was set on fire again. pic.twitter.com/injFKFqMkZ
এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে দাবি করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। গত ডিসেম্বর থেকেই বাংলাদেশে একের পর এক সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ উঠছে। ১৮ ডিসেম্বর কু-মন্তব্যের অভিযোগে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তার কয়েক দিনের মধ্যেই ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাওজানে দুই হিন্দু পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। ২৮ ডিসেম্বর পিরোজপুরের ডুমরিরতালাতেও হিন্দু পরিবারের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরপর এই সব ঘটনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি সম্প্রতি অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে সরব হলেও ঢাকা তা ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে বাস্তবে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বাংলাদেশের বহু সংখ্যালঘু পরিবার।

