ভারতকে ‘কপি’ করার প্রবণতা বাংলাদেশের চিরকালীন। ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তিতে আমদানির শুল্ক ২৫ শতংশ থেকে ১৮ শতাংশ হ্রাস করার বোধহয় বাংলা দেশের কাছে ঈর্ষার কারণ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। ঠিক তার আগেই, ৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে চলেছে বাংলাদেশ। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আর তারপরই এবার বাংলাদেশও উঠেপড়ে লেগেছে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করতে। ভয়, ভারতের সঙ্গে যদি আর প্রতিযোগিতায় পেরে না ওঠে। জানা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি হতে যাচ্ছে। যেখানে বাংলাদেশের প্রধান প্রাধান্য রফতানি খাতে শুল্কের হার হ্রাস করা এবং ভারতের সমান বা আরও কম প্রতিযোগিতামূলক শর্ত নিশ্চিত করা। যদিও চুক্তির শর্তাবলী সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। Bangladesh- US Trade Deal
এর আগে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় বাংলাদেশ সরকার একটি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। যার খসড়া বা বিস্তারিত তথ্য সরকারি বা ব্যবসায়ী পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি।ভারত-মার্কিন চুক্তির ফলে ভারতের পণ্য আমদানির শুল্ক প্রায় ১৮ শতাংশে নেমেছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ (৮০- ৯০%) আমেরিকায় রফতানি হয়। এই বাজারে ভারতের অধিক প্রাধান্য পেলে ইউনূসের দেশের রফতানি কমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারী ও রফতানিকারকেরা বাণিজ্যিক এই চুক্তির বিষয়ে কিছু না জানাতে পারায় বেশ উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (BGMEA) শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন, তারা এই চুক্তির শর্ত সম্পর্কে অবগত না হওয়ায় প্রতিযোগিতার বাজারে দেশের অবস্থান কীভাবে ঠিক রাখা হবে তা তারা বুঝতে পারছে না।
এই অবস্থায় ভোটের ঠিক আগে চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক প্রশ্ন তুলছেন — অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথাযথ ও জনমত সম্মত কিনা? আগামী নির্বাচিত সরকারের কাজ হবে চুক্তি বাস্তবায়ন করা? ঠিক কী ভেবে তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ইউনূস? এসব প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়ই। Bangladesh- US Trade Deal

